ফলতার পুনর্নির্বাচনে উধাও শাসক শিবিরের এজেন্ট, জয়ের সুবাস পেয়ে খোশমেজাজে বিজেপি

ফলতার পুনর্নির্বাচনে উধাও শাসক শিবিরের এজেন্ট, জয়ের সুবাস পেয়ে খোশমেজাজে বিজেপি

বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভূতপূর্ব উলটপুরাণের সাক্ষী থাকল ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। গত এপ্রিলের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের বহু বুথে বিরোধীদের এজেন্ট বসতে না পারার ভুরিভুরি অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু মে মাসে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর, আজকের পুনর্নির্বাচনে সম্পূর্ণ বিপরীত ছবির দেখা মিলল। ফলতার ২৮৫টি বুথের প্রায় সবকটিতেই বিজেপির পোলিং এজেন্টদের সক্রিয় উপস্থিতি চোখে পড়লেও, অধিকাংশ বুথেই নেই তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো প্রতিনিধি।

ভোটের ময়দান থেকে ‘পুষ্পা’র অন্তর্ধান

নির্বাচনের মূল পর্বের সময় ফলতায় তৃণমূলের টিকিটে লড়ার কথা ছিল হেভিওয়েট নেতা জাহাঙ্গির খানের। সেই সময় পুলিশি তৎপরতার জবাবে নিজেকে ‘পুষ্পা’ দাবি করে আইপিএস অজয়পাল শর্মাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছিলেন তিনি। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আর তাকে ময়দানে দেখা যায়নি। ভোটের মাত্র দিন দুয়েক আগে আকস্মিকভাবে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। ফলস্বরূপ, আজ ভোটের সকালে ফলতার বুথগুলোতে শাসক শিবিরের সাংগঠনিক অনুপস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে।

খোশমেজাজে দেবাংশু, দিলীপের তীব্র কটাক্ষ

প্রতিপক্ষের এই আকস্মিক পিছু হঠার পর ফলতার নির্বাচনী মাঠে জয়ের ব্যাপারে এক প্রকার নিশ্চিত পদ্ম শিবিরের প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা। সকাল থেকেই তাকে ফুরফুরে মেজাজে ঘুগনি-মুড়ি খেয়ে বুথে বুথে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, ফলতায় তৃণমূলের এই কার্যত ওয়াকওভার দেওয়া নিয়ে তীব্র খোঁচা দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। জাহাঙ্গির খানকে নিশানা করে তিনি বলেন, “অনেক শুনেছিলাম, ধুরন্ধর নাকি! সে কোথায় গেল? পুলিশ ছাড়া লড়তে ক্ষমতা লাগে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, অতীতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অনেকেই দাপট দেখিয়েছে, কিন্তু পুলিশের সহযোগিতা ছাড়াই বিজেপি লড়াই করে জিতে এসেছে, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

ভয়ের পরিবেশ মুক্ত ভোট ও সম্ভাব্য প্রভাব

২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৪৪ জন ভোটার বিশিষ্ট এই কেন্দ্রে কোনো ধরনের শঙ্কা বা উত্তেজনার পরিবেশ ছাড়াই উৎসবের মেজাজে সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ মুহূর্তে মূল প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো এবং বুথ স্তরে এজেন্ট না থাকার এই ঘটনাটি ফলতায় তৃণমূলের স্থানীয় সংগঠনে একটি বড়সড় ধস নামাতে পারে। ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে সাথে বুথ স্তরে কর্মীদের এই নিষ্ক্রিয়তা আগামী দিনে এই অঞ্চলে ঘাসফুল শিবিরের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *