ভোটের মুখে মাঠ ছাড়লেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, ফলতায় তৃণমূলের অন্দরে তীব্র গৃহদাহ

ভোটের মুখে মাঠ ছাড়লেন ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, ফলতায় তৃণমূলের অন্দরে তীব্র গৃহদাহ

ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে হঠাৎ ভোট ময়দান থেকে ‘বাহুবলি’ নেতা জাহাঙ্গির খানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের এই শীর্ষ নেতার আকস্মিক পিছুটানকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরের অন্দরে তীব্র ক্ষোভ ও বিদ্রোহের আগুন জ্বলে উঠেছে। খোদ দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে কালীঘাটের বৈঠকে একাধিক বিধায়ক জাহাঙ্গিরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর, এবার প্রকাশ্যে কড়া শাস্তির দাবি জানিয়ে মুখ খুলেছেন দলের প্রভাবশালী বিধায়করা। ফলে নির্বাচন চলাকালীনই দলের চরম সমন্বয়হীনতা এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

ক্ষোভের মুখে জাহাঙ্গির ও ‘পুষ্পা’ কটাক্ষ

ভোটের মাত্র দুদিন আগে জাহাঙ্গির খান সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা করেন যে তিনি এই নির্বাচনে লড়ছেন না এবং ফলতার মানুষের শান্তির স্বার্থেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন। জাহাঙ্গিরের এই আকস্মিক ভোলবদল ও পিছুটানকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা। জাহাঙ্গিরের পূর্বের প্রভাবশালী ভাবমূর্তির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যিনি নিজেকে সিনেমার চরিত্রের মতো ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করতেন এবং বলতেন তিনি কখনও ঝুঁকবেন না, ভোটের মুখে তিনি কেন এভাবে ঝুঁকে গেলেন? সন্দীপন সাহা স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাহাঙ্গিরের এই দায়িত্বজ্ঞানহীন কার্যকলাপের কারণে দলকে অত্যন্ত লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে এবং এর ফলে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। জাহাঙ্গিরকে দল থেকে বরখাস্ত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে। অন্যদিকে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যেখানে প্রার্থীর হাঁটার ধরনেও দাপট প্রকাশ পেত, সেখানে ‘পুষ্পা’ কেন ভয় পেয়ে ঝুকে গেল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

ঘটনার নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক অনিয়মের অভিযোগে ফলতা বিধানসভার ভোট পূর্বে বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। নতুন সূচি অনুযায়ী আজ, বৃহস্পতিবার যখন পুনরায় ভোটগ্রহণ চলছে, তার ঠিক আগে জাহাঙ্গিরের মতো একজন দাপুটে নেতার সরে দাঁড়ানো এবং বিরোধী শিবিরের প্রশংসা করার পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক চাপ বা সমীকরণ রয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে ফলতা অঞ্চলে জাহাঙ্গির খানের একক সাম্রাজ্য চলত এবং যেকোনো কাজের জন্য তাঁর অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এমন একজন ‘বাহুবলি’ নেতার হঠাৎ ময়দান ছাড়ার সিদ্ধান্ত দলের নির্বাচনী ফলাফলে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সরকার গঠনের পর এই উপ-নির্বাচন তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত মর্যাদার লড়াই ছিল। কিন্তু ভোটের অন্তিম লগ্নে দলের অন্দরে এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ এবং নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা শুধু ফলতাতেই নয়, সমগ্র রাজ্য জুড়েই তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও ভাবমূর্তিকে বড়সড় ধাক্কা দিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এটিকে জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হলেও, দলের ভেতরের ফাটল এখন পুরোপুরি স্পষ্ট।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *