ডেস্ক জবের আড়ালে থাবা বসাচ্ছে কবজির তীব্র যন্ত্রণা, মুক্তি মিলবে মাত্র ৩ মিনিটের সহজ কৌশলে!

আজকের ডিজিটাল নির্ভর কর্মক্ষেত্রে দিনের একটা বড় অংশ কাটছে কম্পিউটার, ল্যাপটপ কিংবা মোবাইলের স্ক্রিনের সামনে। বিশেষ করে আইটি সেক্টর, কর্পোরেট বা যেকোনো ধরনের ডেস্ক জবের সঙ্গে যুক্ত পেশাজীবীদের কাজের প্রধান হাতিয়ার কিবোর্ড এবং মাউস। তবে দীর্ঘক্ষণ একটানা ও ভুল ভঙ্গিতে এগুলোর ব্যবহার হাতের কবজির মারাত্মক ক্ষতি করছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই নীরব ক্ষতিকে বলা হয় ‘কার্পাল টানেল সিনড্রোম’। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের প্রায় ১৮.৭ শতাংশ ডেস্ক ওয়ার্কার এবং প্রায় ১১.৭ শতাংশ কম্পিউটার ব্যবহারকারী বর্তমানে এই জটিলতায় ভুগছেন।
পেশাগত অভ্যাসে বাড়ছে স্নায়ুর রোগ
আমাদের কবজির হাড় এবং লিগামেন্টের মাঝে ‘কার্পাল টানেল’ নামের একটি সরু পথ রয়েছে। এই টানেলের মধ্য দিয়েই হাতের অন্যতম প্রধান স্নায়ু ‘মিডিয়ান নার্ভ’ এবং টেন্ডনগুলো যাতায়াত করে, যা মূলত বুড়ো আঙুলসহ প্রথম তিনটি আঙুলের অনুভূতি ও নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। ডেস্কে বসে একটানা ভুল ভঙ্গিতে টাইপ করা বা মাউস ধরার ফলে এই টানেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। এতে ভেতরের মিডিয়ান নার্ভটি চেপে গিয়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কবজিতে তীব্র যন্ত্রণা ও অবশ ভাব তৈরি করে। প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে আঙুল বা হাতের তালুতে সুচ ফোটার মতো অনুভূতি, হাত ও কনুই পর্যন্ত ব্যথা ছড়িয়ে পড়া, হাতের মুঠো দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং রাতে তীব্র অস্বস্তি দেখা দেয়।
৩ মিনিটের ম্যাজিক ব্যায়াম ও প্রতিকার
পেশাজীবীদের এই শারীরিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে চিকিৎসকেরা বিশেষ এক ডিকম্প্রেশন ব্যায়ামের পরামর্শ দিচ্ছেন, যা কাজের ফাঁকে মাত্র ৩ মিনিটেই সম্পন্ন করা সম্ভব। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমে যেকোনো একটি হাত সামনের দিকে সোজা করে ছড়িয়ে দিয়ে অন্য হাত দিয়ে আঙুলগুলো আলতো করে ধরে নিজের শরীরের দিকে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড টেনে রাখতে হয়। এরপর একইভাবে হাতের তালু ওপরের দিকে ঘুরিয়ে আঙুলগুলো নিচের দিকে টেনে রিভার্স স্ট্রেচ করতে হয়। সবশেষে হাত দুটি হালকা করে ঝাঁকিয়ে নিলে চেপে থাকা স্নায়ুর ওপর থেকে চাপ কমে এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
প্রয়োজন সচেতনতা ও এরগোনমিক্স
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ব্যায়ামই নয়, এই সমস্যা থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে কাজের পরিবেশ ও অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। টাইপ করার সময় কবজি সোজা রাখা, হাতের চাপ কমাতে এরগোনমিক্স কিবোর্ড ও মাউস ব্যবহার করা এবং প্রতি ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট পর পর হাতকে ছোট বিরতি দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সাথে কবজির সুরক্ষায় রিস্ট সাপোর্ট ব্যবহারের পাশাপাশি প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য বিরতি নেওয়ার নিয়ম মেনে চললে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে হাতের অবশ ভাব স্থায়ী হলে কিংবা হাতের জোর কমে গেলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ অবহেলার ফলে পরবর্তীতে অস্ত্রোপচারের মতো গুরুতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।