মিলল না হেফাজত, হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তিতে তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস

মিলল না হেফাজত, হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তিতে তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস

গ্রেফতারির আশঙ্কা থেকে অবশেষে সাময়িক স্বস্তি পেলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার প্রেক্ষিতে আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। মামলার শুনানি শেষে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত এই তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনও রকম কড়া আইনি পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি চালানো যাবে না। তবে রক্ষাকবচ মিললেও আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ, তাঁর বিরুদ্ধে চলা তদন্ত প্রক্রিয়া থমকে থাকবে না এবং মামলাকারীকে তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে।

আদালতে চরম সংঘাত ও রাজনৈতিক চক্রান্তের দাবি

শুনানি চলাকালীন পরেশরাম দাসের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে রাজ্য সরকারের আইনজীবী আদালতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেন। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় জমি দখল, দাপট খাটানো ও হিংসা ছড়ানোর একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, সরকারি আইনজীবীর সওয়ালে ক্যানিং পশ্চিমের এই প্রার্থীকে ‘দাগি অপরাধী’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। পাল্টা যুক্তি দিয়ে আদালতে পরেশরাম দাস জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে। তিনি আদালতকে অবহিত করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত মোট ৬টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি মামলাই দায়ের হয়েছিল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময়।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

মূলত নির্বাচনী হিংসা ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একের পর এক মামলা রুজু হওয়া এই আইনি লড়াইয়ের প্রধান কারণ। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর কলকাতা হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে যে, বিধায়কের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি আইনত এখনও অত্যন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। একই সঙ্গে জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইন ও প্রোটোকল মেনে তদন্ত এগোনোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে আদালত। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে শাসকদল রাজনৈতিক ভাবে কিছুটা স্বস্তি পেলেও ক্যানিং এলাকায় তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে মামলার পরবর্তী শুনানির ওপরই নির্ভর করছে এই বিধায়কের চূড়ান্ত আইনি ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *