বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র ৩ সপ্তাহ, তবু টিভিতে দেখা যাবে তো? বড় ধাক্কা দিল প্রসার ভারতী!

বিশ্বকাপ ফুটবল আর মাত্র তিন সপ্তাহ দূরে, অথচ ভারতের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কপালে চিন্তার ভাঁজ! ১২ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া এই মেগা টুর্নামেন্ট ভারতের কোন চ্যানেল বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি দেখা যাবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই এবার দায় ঝেড়ে ফেলল দেশের সরকারি সম্প্রচারকারী সংস্থা প্রসার ভারতী। দিল্লি হাইকোর্টে সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব জোগাড় করা তাদের দায়িত্বের আওতায় পড়ে না। সরকারি মাধ্যমের এমন অনীহার পর টুর্নামেন্টের সম্প্রচার নিয়ে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হলো।
আদালতে প্রসার ভারতীর হাত ধুয়ে ফেলা
দিল্লি হাইকোর্টে ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে চলমান একটি মামলার শুনানিতে প্রসার ভারতী সাফ জানিয়েছে, এই বিশ্ব আসরের স্বত্ব কেনা তাদের আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে না। এই দৌড় থেকে সরকারি মাধ্যম নিজেদের সরিয়ে নেওয়ায় ভারতীয় দর্শকদের উদ্বেগ এখন তুঙ্গে। কারণ, এখনও পর্যন্ত কোনও বেসরকারি স্পোর্টস চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের বাজারে বিশ্বকাপের স্বত্ব কেনার ব্যাপারে এগিয়ে আসেনি। অথচ ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারতে প্রায় ৭৪.৫ কোটি অনুরাগী খেলা দেখেছিলেন, যা দর্শকসংখ্যার নিরিখে চিনের পরেই বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ।
গভীর রাতের সময়সূচিই কি মূল খলনায়ক?
এবারের বিশ্বকাপ অনেক দিক থেকেই ঐতিহাসিক। আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে এবারই প্রথম ৪৮টি দল ১০৪টি ম্যাচে অংশ নিতে চলেছে। তবে ভারতীয় বাজারে সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি না হওয়ার পেছনে মূল খলনায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে মহাদেশীয় সময়ের ব্যবধানকে। আমেরিকার সঙ্গে সময়ের পার্থক্যের কারণে অধিকাংশ ম্যাচই সম্প্রচারিত হবে ভারতীয় সময় অনুযায়ী গভীর রাতে। এমনকি ২০ জুলাইয়ের ফাইনাল ম্যাচটিও শুরু হবে রাত সাড়ে ১২টায়। পুরো টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৪টি ম্যাচ মধ্যরাতের আগে দেখার সুযোগ পাবেন ভারতীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, গভীর রাতের ম্যাচের কারণে কাঙ্ক্ষিত ভিউয়ারশিপ না পাওয়ার আশঙ্কায় বড় বিজ্ঞাপনী সংস্থা এবং সম্প্রচারকারীরা কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে দ্বিধাবোধ করছে।
ফিফার বিপুল আর্থিক প্রত্যাশা ও ভারতীয় বাজার
বিগত কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারতের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্বের জন্য জিওসিনেমা প্রায় ৬ কোটি ডলার খরচ করেছিল। বিপুল এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থা ফিফা এবার ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ১০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতীয় পুরুষ ফুটবল দল ১৩৬ এবং নারী দল ৬৯ নম্বরে থাকলেও, দর্শকসংখ্যার বিপুল চাহিদার কারণে ভারতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার মনে করে ফিফা। তবে বিজ্ঞাপনদাতাদের অনীহা এবং ফিফার চড়া দামের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত ভারতের দর্শকরা ঘরে বসে খেলা দেখার সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন রয়েই গেল।