কাটবে হাওড়া পুরসভার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, দ্রুত ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

হাওড়া শহরের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা দূর করতে এবং পুরসভার অচলাবস্থা কাটাতে একগুচ্ছ কড়া ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে নাগরিক বোর্ডের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে পুরভোট না হওয়ায় থমকে থাকা নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য ফেরানোই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। এই বৈঠকের মাধ্যমে শহরের পানীয় জল, নিকাশি ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অনুপ্রবেশ রুখতে একটি স্পষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
উন্নয়নে জোর ও দুর্নীতির তদন্ত
হাওড়া শহরের সামগ্রিক নাগরিক পরিষেবা নিশ্চিত করতে পরিশ্রুত পর্যাপ্ত পানীয় জল সরবরাহ এবং নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অতীতে বেআইনিভাবে যে সমস্ত জলাশয় বুজিয়ে ফেলা হয়েছে, সেখানে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলসংকট মেটাতে বিকল্প জলাধার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘কো-অর্ডিনেশন কমিটি’ বা সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, পুরসভার বিগত জমানার যাবতীয় দুর্নীতি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান
শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনকে অত্যন্ত কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক হিংসা এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের মতো সংবেদনশীল ঘটনায় পুলিশকে কোনো রকম রেয়াত না করে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জেলার আইনশৃঙ্খলার নিয়মিত রিপোর্ট রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মারফত সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী দফতরে (সিএমও) পাঠাতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে, অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্ত পেরিয়ে আসা যে সমস্ত অনুপ্রবেশকারী নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র আওতায় পড়েন না, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না। এই ধরনের অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে আদালতের দীর্ঘমেয়াদি আইনি প্রক্রিয়ায় না পাঠিয়ে, সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে যাতে দ্রুত তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়। সরকারের এই সমস্ত কঠোর পদক্ষেপের ফলে হাওড়া শহরের প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটার পাশাপাশি নাগরিক নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।