ভোটের হারেই কি ভাঙল দুর্গ, গ্রেফতারি এড়াতে এবার হাইকোর্টে তৃণমূলের তারকা দম্পতি অদিত-দেবরাজ!

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। ভোটে পরাজয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নতুন করে আইনি বিপাকে জড়ালেন রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বিশিষ্ট কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি এবং তাঁর স্বামী, বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রকৃত সম্পত্তির খতিয়ান লুকিয়ে রাখার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এই তারকা দম্পতির বিরুদ্ধে। আয়বহির্ভূত সম্পত্তির এই মামলায় যেকোনো মুহূর্তে পুলিশি গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি হতেই তড়িঘড়ি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন অদিতি ও দেবরাজ। তাঁদের আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন। আদালতের ইঙ্গিত অনুযায়ী, শুক্রবারই এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘনিষ্ঠদের গ্রেফতারি ও ক্রমশ বাড়তে থাকা চাপ
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে বিজেপির তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে অদিতির পরাজয়ের পর থেকেই এই দম্পতির ওপর চাপ বাড়ছিল। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দেবরাজ চক্রবর্তীর খোঁজ মিলছিল না এবং তিনি আইনি জটিলতা এড়াতে আত্মগোপন করেছেন বলে গুঞ্জন ছড়ায়। দীর্ঘ লুকোচুরির পর অবশেষে পুলিশের জেরার মুখে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন এই যুবনেতা। দুর্নীতির অভিযোগে শেষমেশ আটক হন দেবরাজ।
এর আগেই গত মঙ্গলবার বাগুইআটি থানা এলাকা থেকে দেবরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও তাঁর ‘ডান হাত’ বলে পরিচিত অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ৪ মে ভোটের গণনার দিন বিজেপির বিজয়মিছিল আটকানোর চেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়। একই ঘটনায় বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী এবং হেমন্ত চৌধুরীকেও ইতিমধ্যে শ্রীঘরে পাঠানো হয়েছে। নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র ও পুরসভা এলাকার একাধিক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই একের পর এক গ্রেফতারি দম্পতির ওপর আইনি চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তদন্তের প্রভাব ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
রাজ্যে বিগত কয়েক বছর ধরেই নিয়োগ দুর্নীতিসহ একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারিতে শাসকদলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীকে জেল হেফাজতে যেতে হয়েছে। এই আবহে অদিতি ও দেবরাজের বিরুদ্ধে ওঠা আয়বহির্ভূত সম্পত্তির অভিযোগটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২১ সালে বিধায়ক হওয়ার পর থেকে দেবরাজ ও অদিতির রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধী শিবির বারবার সরব হয়েছে। এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় তাঁদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হাইকোর্ট যদি এই দম্পতিকে আইনি রক্ষাকবচ বা আগাম জামিন না দেয়, তবে তাঁদের গ্রেফতারি স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এর ফলে বিধাননগর পুরসভা এবং উত্তর ২৪ পরগনার তৃণমূল সংগঠনে বড় ধরনের নেতৃত্বসংকট তৈরি হতে পারে, যা ক্ষমতা হারানোর পর দলটিকে আরও ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে। এখন কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের ওপরই নির্ভর করছে এই তারকা দম্পতির ভবিষ্যৎ।