বিজেপিকে টেক্কা দিতেই ভারতে ব্লকড মিম পার্টি ‘সিজেপি’, নেপথ্যে কোন ক্ষোভ?

ডিজিটাল দুনিয়ায় রাতারাতি ঝড় তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি-র অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডল ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইনস্টাগ্রামে শাসকদল বিজেপি-র ফলোয়ার সংখ্যাকে টপকে যাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক মিম ও তীক্ষ্ণ কটাক্ষের ওপর ভর করে গড়ে ওঠা এই ভার্চুয়াল দলটির অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এর প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দিপকে। তিনি বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং আম আদমি পার্টির প্রাক্তন সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেন কর্মী।
নামকরণের নেপথ্যে প্রধান বিচারপতির মন্তব্য
গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময় দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার যুবকদের অনলাইনে অতিরিক্ত সময় কাটানো নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি দাবি করেন যে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে এবং ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশ্যে তিনি ওই কথা বলেছিলেন। তবে এই ব্যাখ্যায় যুবসমাজ শান্ত হয়নি। প্রধান বিচারপতির ওই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই বাকস্বাধীনতার দাবিতে এবং ক্ষোভ থেকে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। যুবসমাজ নিজেদের এই দলের মূল মন্ত্র হিসেবে বেছে নেয়— ‘যুব সম্প্রদায়ের দ্বারা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য’। তাদের রসাত্মক স্লোগান, ‘সেক্যুলার, সোশ্যালিস্ট, ডেমক্রেটিক, লেজি’।
বিজেপিকে টেক্কা ও মহুয়া-কীর্তিদের যোগদান
সামাজিক মাধ্যমে সিজেপি-র জনপ্রিয়তা রকেটের গতিতে বৃদ্ধি পায়। ইনস্টাগ্রামে দলটির ফলোয়ার সংখ্যা ১০ মিলিয়নে পৌঁছে যায়, যা ভারতের শাসকদল বিজেপি-র অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের (৮.৭ মিলিয়ন) চেয়েও বেশি। অবশ্য এই তালিকায় এখনও ১৩ মিলিয়ন ফলোয়ার নিয়ে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। এই ভার্চুয়াল আন্দোলনের ঢেউ এতটাই তীব্র যে প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদও এই পার্টিতে যোগ দিয়েছেন।
প্রতিবাদের কারণ ও গভীর প্রভাব
নেহাত মিম বা ঠাট্টা হিসেবে শুরু হলেও এই দলটির পেছনে রয়েছে বেকারত্ব, NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি ভারতীয় যুবসমাজের গভীর হতাশা। সিজেপি একটি আনুষ্ঠানিক ইশতেহারও প্রকাশ করেছে। তাদের মূল দাবিদাওয়া ও প্রভাবের ক্ষেত্রগুলি হলো:
- অবসর গ্রহণের পর প্রধান বিচারপতিদের রাজ্যসভার পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
- নির্বাচন কমিশনকে আরও বেশি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সংস্থায় রূপান্তর করা।
- সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় মহিলাদের জন্য ৫০ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা।
- মিডিয়ার মালিকানা ও কর্মসংস্থানের অধিকারে আমূল সংস্কার আনা।
ডিজিটাল মাধ্যমে এই অ্যাকাউন্ট ব্লক করার ঘটনাটি যুবসমাজের ক্ষোভকে আরও উস্কে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ককরোচ জনতা পার্টি শেষ পর্যন্ত একটি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে নাকি ইন্টারনেট নির্ভর প্রতিবাদী আন্দোলন হিসেবেই থেকে যাবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটি যে ভারতীয় যুবসমাজের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের এক অভিনব প্রতিফলন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।