পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাতপরিচয়দের গুলিতে ঝাঁঝরা পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান!

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অজ্ঞাতপরিচয়দের গুলিতে ঝাঁঝরা পুলওয়ামা হামলার মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান!

২০১৯ সালের ভয়াবহ পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম প্রধান চক্রী ও মাস্টারমাইন্ড হামজা বুরহান ওরফে ‘ডাক্তার’ পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) নিকেশ হয়েছে। পিওকে-র মুজাফফারাবাদে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির এলোপাথাড়ি গুলিতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় সে। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার রত্নিপোরার মূল বাসিন্দা হামজা ২০১৭ সালে সীমান্ত পার করে পাকিস্তানে পালিয়ে গিয়েছিল। সেখানে শিক্ষকের ছদ্মবেশে লুকিয়ে থেকে সে ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল বলে জানা গেছে।

অফিসে ঢুকে ঝাঁঝরা করল বন্দুকধারীরা

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মুজাফফারাবাদে নিজের সুরক্ষিত অফিসে বসে ছিল হামজা বুরহান। সেই সময় আকস্মিকভাবে কিছু অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী সেখানে ঢুকে তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই শীর্ষ সন্ত্রাসবাদীর। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI) হামজাকে বিশেষ কার্যালয় দেওয়ার পাশাপাশি দিনরাত সুরক্ষার জন্য একে-৪৭ সজ্জিত রক্ষী মোতায়েন করেছিল। তা সত্ত্বেও এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ড পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় গলদকে সামনে এনে দিয়েছে।

শিক্ষকের ছদ্মবেশে ভারতবিরোধী নীলনকশা

পাকিস্তানে নিজেকে শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলেও পর্দার আড়ালে হামজা ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। মুজাফফারাবাদকে কেন্দ্র করে সে উপত্যকার তরুণদের উগ্রপন্থায় উস্কানি দেওয়া এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনকে অস্ত্র ও রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ করত। একই সাথে সীমান্ত এলাকায় জঙ্গিদের অনুপ্রবেশে সরাসরি সাহায্য করত সে। ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কে সিআরপিএফ কনভয়ে জইশ-ই-মহম্মদের যে আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনেরও বেশি ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন, তার নেপথ্যে অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিল এই হামজা।

প্রভাব ও পরবর্তী প্রেক্ষাপট

এই হত্যাকাণ্ডের ফলে পাকিস্তানের মাটিতে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়ের তত্ত্বটি আবারও প্রমাণিত হলো। হামজা বুরহানের মতো শীর্ষ নেতার মৃত্যুতে সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি অনুপ্রবেশ এবং উপত্যকায় নতুন করে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টায় বড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। পুলওয়ামা হামলার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বালাকোটে জইশের প্রশিক্ষণ শিবিরে এয়ারস্ট্রাইক চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছিল। এবার খোদ পাকিস্তানের সুরক্ষিত ঘাঁটিতে মূল চক্রীর এই রহস্যময় মৃত্যু ভারতের মাটিতে নাশকতার ছক কষা বাকি জঙ্গি সংগঠনগুলোর জন্য একটি বড়সড় সতর্কবার্তা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *