সরকারি কর্মীদের মুখ বাঁধল নবান্ন, ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ এর তোপ দাগলেন অভিষেক

সরকারি কর্মীদের মুখ বাঁধল নবান্ন, ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ এর তোপ দাগলেন অভিষেক

তথ্য ফাঁস রুখতে এবং সমালোচনা বন্ধ করতে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ওপর জারি হয়েছে এক ‘মেগা নিষেধাজ্ঞা’। নবান্নের এই নতুন ফরমানকে কেন্দ্র করে এবার রণংদেহি মেজাজে ময়দানে নামলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি বিজেপি সরকারের এই নির্দেশিকাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি। নিজের এক্স (প্রাক্তন টুইটার) হ্যান্ডেলে কড়া পোস্ট করে অভিষেক সাফ জানিয়েছেন, এই সরকার এখন কর্মচারীদের ওপর ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ চাপিয়ে দেওয়ার খেলায় মেতেছে।

কড়া নির্দেশিকা ও অভিষেকের ক্ষোভ

নবান্নের এই কড়া নির্দেশিকার প্রতিলিপি তুলে ধরে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের বিদায়ী সাংসদ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, এই সার্কুলার জুড়ে একটা সতর্কবার্তার মতন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’। তবে এটি সুশাসন বজায় রাখার জন্য নয়, বরং গোটা বাংলার সরকারি কর্মচারীদের জোর করে মুখ বন্ধ রাখার এক মরিয়া চেষ্টা। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলা, কোনও নিবন্ধ বা প্রবন্ধ লেখা এবং মিডিয়ার কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একইসঙ্গে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও সমালোচনা করা কিংবা দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এমন কোনও মন্তব্য করার ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও বাকস্বাধীনতার প্রশ্ন

রাজ্যের নতুন প্রতিষ্ঠিত বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক যোগ করেন, বিজেপির রিমোট-কন্ট্রোল শাসনে নীরবতাই এখন প্রশাসনের প্রধান যোগ্যতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর দাবি, এই মারাত্মক সার্কুলারটি আসলে কোনও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নয়, বরং বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার এবং মৌলিক অধিকারকে পদ্ধতিগতভাবে গলা টিপে মারার এক নীল নকশা, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হল দিল্লির প্রতি অন্ধ আনুগত্য সুনিশ্চিত করা। চরম কটাক্ষের সুরে তিনি লিখেছেন, এর সহজ অর্থ হল, ঠিক যা বলা হবে সেটাই ভাবতে হবে এবং অনুমতি মিললে তবেই মুখ খোলা যাবে। যখন কোনও সরকার সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, তখন তারা বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে শুরু করে। এটা কোনও শক্তির লক্ষণ নয়, এটা হল ‘গণতন্ত্রের শ্বাসরোধ’।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের পরেই নবান্নের এই ‘মিডিয়া গ্যাগ অর্ডার’ বা মুখ বন্ধের নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে শাসক-বিরোধী তরজা আরও চরম আকার ধারণ করতে চলেছে। তথ্য ফাঁস আটকানোর প্রশাসনিক প্রয়াস শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *