আদালতের অনুমতি ছাড়া বিদেশ যেতে পারবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, রক্ষাকবচের মেয়াদ বাড়াল হাইকোর্ট

ভোটের প্রচারে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শর্তসাপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ৩১ জুলাই অথবা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও জবরদস্তিমূলক বা কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। তবে এই স্বস্তির পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদের ওপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে আদালত। হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, আদালতের লিখিত অনুমতি ছাড়া আপাতত দেশের বাইরে যেতে পারবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
মামলার প্রেক্ষাপট ও আদালতের অসন্তোষ
গত ২৭ এপ্রিল আরামবাগে একটি নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নাম না করে নজিরবিহীন আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “৪ তারিখে দেখব দিল্লির কোন বাবা বাঁচাবে।” এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে অভিষেক হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলে, মামলার শুনানিতে তাঁর ওই মন্তব্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। শুনানির সময় বিচারপতি মন্তব্য করেন, ৪ জুন যদি নির্বাচনের ফলাফল অন্যরকম হতো, তবে এই ধরণের বক্তব্যের কারণে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারত। রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে আরও সংযত হওয়া উচিত বলে মনে করে আদালত।
শর্ত সাপেক্ষে সুরক্ষা ও সম্ভাব্য প্রভাব
আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি গ্রেফতারি বা কড়া পদক্ষেপ থেকে রক্ষাকবচ দিলেও, তাঁর গতিবিধির ওপর আইনি নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ডাকলে তাঁকে হাজিরা দিতে হবে এবং কোথাও ভ্রমণের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস দিয়ে জানাতে হবে। আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়া তাঁর বিদেশ যাত্রার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাময়িক স্বস্তি পেলেও, বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং ভ্রমণের আগে নোটিস দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কর্মসূচিতে কিছুটা হলেও রাশ টানবে। অন্যদিকে, আগামী দিনে রাজনৈতিক নেতাদের নির্বাচনী প্রচারের ভাষা এবং বক্তব্যের সীমারেখা নির্ধারণে আদালতের এই পর্যবেক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে থাকবে।