নতুন দিগন্তে বাংলা, উন্নয়নে একসঙ্গে চলার বার্তা শিল্পমহলের

রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলার শিল্পমহল ও বিভিন্ন বণিকসভা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক তরজা আর নীতিগত দোলাচল কাটিয়ে এবার রাজ্যে বিনিয়োগের খরা কাটবে বলে আশা করছেন লগ্নিকারীরা। নির্বাচনের এই ‘নির্ণায়ক’ ফলাফলকে এক নতুন সূচনার আশ্বাস হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা, যা আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে পারে।
স্থিতিশীল প্রশাসন ও ডবল ইঞ্জিনের হাওয়া
প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা যে কোনো অঞ্চলের অগ্রগতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিল্পমহলের মতে, কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসায় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সমন্বয় তৈরি হবে। এর ফলে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সহজে ব্যবসা করার (ইজ অব ডুইং বিজনেস) পরিবেশ আরও জোরদার হবে। অতীতে জমি নীতি কিংবা আর্থিক ইনসেনটিভ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটিয়ে এবার একটি নির্দিষ্ট ও দীর্ঘস্থায়ী শিল্পনীতি রূপায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার মতো সম্ভাবনাপূর্ণ শহরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া নতুন পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভরসা জোগাবে।
শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থানের রূপরেখা
রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ও শিল্পমহলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতিরা। কর্মসংস্থান তৈরি, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো বুনিয়াদি ক্ষেত্রের বিকাশে তাঁরা বাংলার প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রিয়েল এস্টেট শিল্পের দ্রুত অনুমোদন, নিয়মের সংস্কার এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, অতীতে থমকে যাওয়া বড় শিল্প প্রকল্পগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বণিকসভাগুলির তিন দফা দাওয়াই
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় বণিকসভাগুলি মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছে। প্রথমত, বিশ্বমানের পরিকাঠামো নির্মাণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি ক্ষেত্রের উদ্ভাবনী ভাবনার সঙ্গে গতিশীল প্রশাসনের মেলবন্ধন ঘটানো। এবং তৃতীয়ত, লগ্নির পথ সুগম করতে নমনীয় আর্থিক মডেল ও ইনসেনটিভের নিশ্চয়তা দেওয়া।
বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে একটি প্রগতিশীল ও শিল্প-সহায়ক নীতি প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। এর জন্য বাস্তববাদী জমি অধিগ্রহণ নীতি তৈরির পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের অনুদান সংগ্রহ করে রাজ্যের রাজস্ব ঘাটতি মেটানো প্রয়োজন। শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষানীতি তৈরি করা গেলে রাজ্যের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে বণিক মহল।