ক্যানসার নিয়ে সোশাল মিডিয়ার গুজব ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, জেনে নিন বৈজ্ঞানিক সত্য

ক্যানসার নিয়ে সোশাল মিডিয়ার গুজব ছড়াচ্ছে আতঙ্ক, জেনে নিন বৈজ্ঞানিক সত্য

বর্তমান ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারের সাথে সাথে ক্যানসার নিয়ে নানাবিধ ভ্রান্ত ধারণা ও গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চিনি খাওয়া, মাইক্রোওভেনে রান্না কিংবা ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের কারণে ক্যানসার হতে পারে—এমন সব ভিত্তিহীন দাবি সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করছে। চিকিৎসকদের মতে, তথাকথিত ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’ থেকে প্রাপ্ত এসব ভুয়ো তথ্যের কারণে রোগীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। ফলে শরীরে উপসর্গ থাকা সত্ত্বেও অনেকে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন না, আবার কেউ কেউ অপ্রমাণিত ও অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসার ওপর ভরসা করে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

ভ্রান্ত ধারণা বনাম বৈজ্ঞানিক সত্য

ক্যানসার নিয়ে সবচেয়ে বড় মিথ বা ভুল ধারণাটি হলো চিনি খাওয়া। বিজ্ঞান বলছে, ক্যানসার কোষের পাশাপাশি শরীরের সুস্থ কোষগুলোও শক্তির জন্য গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা শরীরের ক্ষতি করলেও পরিমিত চিনি খাওয়া ক্যানসারের সরাসরি কারণ নয়। একইভাবে, মাইক্রোওভেনে তৈরি খাবার কিংবা ডিওডোরেন্ট ব্যবহারের সাথে ক্যানসার হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া, অনেকের ধারণা পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস না থাকলে এই রোগের ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রেই কোনো জিনগত বা পারিবারিক ইতিহাস থাকে না। যেমন, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে মাত্র ৫ শতাংশ রোগীর জিনগত কারণ পাওয়া যায়।

সচেতনতা ও দ্রুত রোগ নির্ণয়ের গুরুত্ব

ক্যানসার মানেই প্রাথমিক অবস্থায় অসহ্য ব্যথা হবে—এই ধারণাও সম্পূর্ণ ভুল। অকারণ ক্লান্তি, দীর্ঘদিনের পেটের অস্বস্তি, পেট ফাঁপা, খিদে কমে যাওয়া কিংবা নিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পরেও ডিম্বাশয়ের ক্যানসার নীরবে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের পরীক্ষা ‘ম্যামোগ্রাম’ নিয়ে ছড়ানো ভয়ও অমূলক। আধুনিক ডিজিটাল ম্যামোগ্রামে রেডিয়েশনের মাত্রা অত্যন্ত কম এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। অবৈজ্ঞানিক ঘরোয়া বা ভেষজ চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে সময় নষ্ট করার চেয়ে যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ ক্যানসার যত দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে, সঠিক চিকিৎসায় রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ততই বৃদ্ধি পাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *