দাবদাহে পুড়ছে দেশ, স্বস্তির বার্তা নিয়ে সময়ের আগেই কেরলে ঢুকছে বর্ষা!

দাবদাহে পুড়ছে দেশ, স্বস্তির বার্তা নিয়ে সময়ের আগেই কেরলে ঢুকছে বর্ষা!

তীব্র তাপপ্রবাহে ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের জীবন। পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের একাধিক রাজ্যে পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে আবহাওয়া ধারণ করেছে চরম রূপ। চলতি মে মাসের বাকি দিনগুলিতেও পরিস্থিতি পরিবর্তনের তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা কোটি কোটি ভারতীয়র জন্য অবশেষে স্বস্তির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

সময়ের আগেই বর্ষার আগমন

সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করলেও, এবার নির্ধারিত সময়ের আগেই দক্ষিণ-পশ্চিমী মৌসুমী বায়ু দেশে হাজির হতে চলেছে। আগামী ২৬ মে কেরল উপকূলে বর্ষা নামার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের বার্ষিক বৃষ্টির প্রায় ৭০ শতাংশই আসে এই মৌসুমী বায়ুর হাত ধরে। কেরলে পা রাখার পর সাধারণত দুই থেকে পাঁচ জুনের মধ্যে মহারাষ্ট্রে প্রবেশ করবে বর্ষা। এরপর তা ধীরে ধীরে উত্তর ভারতের দিকে অগ্রসর হবে। দিল্লিতে অবশ্য চিরাচরিত নিয়ম মেনে আগামী ২৭ জুনের আশেপাশেই বর্ষা নামার কথা রয়েছে।

এল নিনোর থাবা ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টির আশঙ্কা

সময়ের আগে বর্ষা এলেও সাধারণ মানুষের স্বস্তি পুরোপুরি মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। আবহাওয়াবিদদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের ‘এল নিনো’র প্রভাবে এবার সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে। মৌসম ভবনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবার দেশে প্রায় ৯২ শতাংশ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা স্কাইমেটের দাবি, এই বছর বৃষ্টিপাতের পরিমাণ হতে পারে ৯৪ শতাংশ। প্রধানত জুলাই ও অগাস্ট মাস জুড়ে দেশব্যাপী বর্ষার মূল সক্রিয়তা দেখা যাবে।

এল নিনোর পরোক্ষ প্রভাবে এবার বর্ষার চরিত্রেও বড় বদল আসতে পারে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হলেও এবার টানা কয়েকদিন ধরে একটানা ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশ কম। বরং বর্ষা চলাকালীন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হতে পারে।

বাংলায় বর্ষার ভবিষ্যৎ ও নিম্নচাপের ভূমিকা

কেরলে সময়ের আগে বর্ষা এলেও পশ্চিমবঙ্গ বা পূর্ব ভারতে তা কবে প্রবেশ করবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ দক্ষিণ থেকে উত্তর ভারতের দিকে মৌসুমী বায়ুর গতি অত্যন্ত ধীর হতে পারে। বাংলায় বর্ষার আগমন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বঙ্গোপসাগরের পরিস্থিতির ওপর। বঙ্গোপসাগরে অনুকূল নিম্নচাপ তৈরি হলে তবেই দক্ষিণবঙ্গসহ রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বর্ষা প্রবেশ করবে। একইভাবে আরব সাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে তা মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে দ্রুত বৃষ্টি বয়ে নিয়ে আসবে। তবে বর্ষা কিছুটা বিলম্বিত হলেও জুন মাসে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবেই উত্তর ভারতের তীব্র তাপপ্রবাহের অবসান ঘটবে এবং তাপমাত্রা অনেকটাই কমবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *