রান্নাঘরে এবার জ্বালানির ছ্যাঁকা, রাতারাতি মহার্ঘ হতে পারে শাকসবজি ও অনলাইন ডেলিভারি!

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ সঙ্কট এবং হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বাজারে বড়সড় ওলটপালট হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক এই সংকটের সরাসরি প্রভাব এবার পড়তে চলেছে ভারতের সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। পেট্রোল ও ডিজেলের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে শাকসবজি, ফলমূল, মুদিখানার সামগ্রী থেকে শুরু করে ওষুধ এবং অনলাইন ডেলিভারি—সব কিছুরই খরচ রাতারাতি এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্য পরিবহণ শিল্পের বর্ধিত খরচ ব্যবসাগুলির ওপর চাপতে শুরু করায় এই মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্বয়ংক্রিয় ভাড়া বৃদ্ধির নতুন নিয়ম
দেশের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থার ওপর ডিজেলের দাম বৃদ্ধির এই অসহনীয় চাপ সামলাতে অল ইন্ডিয়া ট্রান্সপোর্টার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন একটি জরুরি সার্কুলার জারি করেছে। অ্যাসোসিয়েশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশজুড়ে একটি ‘ফুয়েল অ্যাডজাস্টমেন্ট ফ্যাক্টর’ চালু করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ডিজেলের দাম বাড়ার সাথে সাথেই পরিবহণকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালপত্রের গাড়িভাড়া বাড়িয়ে দিতে পারবেন। একটি ট্রাক চালানোর মোট খরচের প্রায় ৬৫ শতাংশই ব্যয় হয় ডিজেলে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি ১ টাকা বাড়লে পরিবহণ খরচ ০.৬৫% বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ, বাজারে ডিজেলের দাম যদি ৫ টাকা বাড়ে, তবে মাল পরিবহণের ভাড়া ৩.২৫% পর্যন্ত বেড়ে যাবে। একইভাবে ১০ টাকা বাড়লে ভাড়া ৬.৫% এবং ১৫ টাকা বাড়লে পরিবহণ খরচ প্রায় ১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
যেভাবে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়বে
যেহেতু শাকসবজি, ফলমূল, দুগ্ধজাত পণ্য, ওষুধ, ইলেকট্রনিক্স এবং ই-কমার্সের বেশিরভাগ পণ্যই দোকান বা গোডাউনে পৌঁছানোর জন্য দূরপাল্লার ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল, তাই পরিবহণ খরচ বৃদ্ধির এই সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে। এফএমসিজি (FMCG) কো ম্পা নি, খুচরো বিক্রেতা, ই-কমার্স সংস্থা এবং খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলির লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায়, তারা সেই বাড়তি খরচের বোঝা আংশিকভাবে সাধারণ উপভোক্তাদের ওপরই চাপিয়ে দেবে। ফলস্বরূপ, খুব শীঘ্রই মুদিখানার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ার পাশাপাশি জোম্যাটো, সুইগি বা অ্যামাজনের মতো অনলাইন ফুড ও লজিস্টিকস ডেলিভারি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে চলেছে।