কোচবিহারে বিধানসভার স্পিকারকে হেনস্তার অভিযোগে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহারে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছাল। কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র ঘোষকে হেনস্তার অভিযোগে কোচবিহার পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর উজ্জ্বল তরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভোটের ঠিক মুখে শাসকদলের একজন কাউন্সিলর গ্রেপ্তার হওয়ায় জেলার রাজনৈতিক পরিবেশ অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ঘটনাটি ঘটে নির্বাচনের আগের দিন রাতে। বিজেপি দাবি করেছে, ওই রাতে ২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন অসুস্থ বিজেপি কর্মীকে দেখতে গিয়েছিলেন বর্তমান বিধায়ক তথা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র ঘোষ। সেখানে তাঁর কোনো রাজনৈতিক প্রচার বা অর্থ লেনদেনের উদ্দেশ্য ছিল না। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ছিল, নির্বাচনের আগের দিন রাতে ওই এলাকায় বিজেপি প্রার্থী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিলি করতে গিয়েছিলেন। এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল কাউন্সিলর উজ্জ্বল তরের নেতৃত্বে একদল কর্মী বিধায়ককে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনার রাতে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দিনকয়েক আগে স্পিকারকে হেনস্তা করার একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয় তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পদক্ষেপ নিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিহিংসার দাবি
এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ধৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের মা মিনা তর দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে কোনো অপরাধ করেনি, বরং ভোটের আগে টাকা বিলির ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল। তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, ভোটের আগে শাসকদলকে চাপে ফেলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, দেশের আইন অনুযায়ী পুলিশ তার নিজস্ব কাজ করছে। ভোটের ঠিক আগে এই ঘটনার জেরে কোচবিহার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও নতুন করে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।