রোমের মঞ্চে মোদির ‘চাওয়ালা’ কূটনীতি, বিশ্ব চা দিবসের প্রাক্কালে অনন্য নজির ভারতের

আন্তর্জাতিক চা দিবসের ঠিক আগের দিন ইতালির রোমে রাষ্ট্রসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অ্যাসোসিয়েশন (এফএও) আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে এক অভিনব মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিশ্বমঞ্চ। ইতালির রোম শহরে চা-পানের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য উদযাপনের এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে অত্যন্ত সহজভাবে ‘চাওয়ালা’ হিসেবে পরিচয় দেন। প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেন, বিশ্ব চা দিবস উদযাপনের জন্য একজন চা বিক্রেতা একদিন আগেই সকলের মাঝে হাজির হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের বৈচিত্র্যময় চায়ের স্বাদ ও কড়া মেজাজের কথাও তুলে ধরেন, যা উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলে।
মর্যাদাপূর্ণ ‘এগ্রিকোলা পদক’ জয় ও বৈশ্বিক স্বীকৃতি
এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে মানব কল্যাণে ভারতের অবিচল অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ ‘এগ্রিকোলা পদক ২০২৬’-এ ভূষিত করে এফএও। এই সম্মাননা গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী ভারতের কোটি কোটি কৃষক, পশুপালক, মৎস্যজীবী এবং কৃষি বিজ্ঞানীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই পদকপ্রাপ্তি বিশ্বমঞ্চে ভারতের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নীতির এক বড়সড় কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব
খ্রিস্টপূর্ব ২৭২৭ অব্দে চীনে ভেষজ গুণসম্পন্ন পানীয় হিসেবে চায়ের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ বিশ্বজুড়ে এক বৈপ্লবিক পানীয়তে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালে রাষ্ট্রসংঘ ২১ মে তারিখটিকে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে এটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রোমের মাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্য ভারতের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্পকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও ব্র্যান্ডিং করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি, বিশ্বমঞ্চে একজন রাষ্ট্রপ্রধানের এমন মাটির কাছাকাছি আত্মপরিচয় ভারতের কূটনৈতিক জনসংযোগকে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।