ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না তেহরান, ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে কড়া বার্তা দিলেন মোজতবা

ইউরেনিয়ামের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না তেহরান, ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে কড়া বার্তা দিলেন মোজতবা

আমেরিকার দেওয়া যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই দেশের বাইরে পাঠানো হবে না। ইরানের আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’র বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তেহরানের কাছে ৪০০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছিল, যা বর্তমান শান্তি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চুক্তির শর্ত ও ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনোভাবেই চান না যে ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকুক। গত মাসেই তিনি দাবি করেছিলেন, তেহরান তাদের মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে সম্মত হয়েছে এবং উভয় পক্ষ একটি শান্তি চুক্তির বেশ কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। তবে মোজতবার সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট যে ইরান তাদের ইউরেনিয়াম অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেবে না। শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আমেরিকা ইরানকে যে পাঁচটি শর্ত দিয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল এই ৪০০ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম হস্তান্তর। এর বিনিময়ে ইরানকে একটি পরমাণু ঘাঁটি চালু রাখার অনুমতি এবং আমেরিকার কাছে বাজেয়াপ্ত থাকা ইরানের বৈদেশিক সম্পদের ২৫ শতাংশ ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ বাবদ ইরানের দাবি আমেরিকা আগেই নাকচ করে দেয়।

ভূ-রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

আপাতত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চললেও, ইউরেনিয়াম হস্তান্তর নিয়ে এই অচলাবস্থার জেরে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আবারও গুরুতর আকার নিতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলের পরবর্তী যৌথ রণকৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। ফলে এই চুক্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে গেলে অঞ্চলটিতে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *