নিষিদ্ধ প্রেম আর মনমাতানো খাবারের আখ্যানে বিশ্বজয়, প্রথমবার বুকার জিতল ম্যান্ডারিন ভাষার উপন্যাস

বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে এবার ইতিহাস গড়ল তাইওয়ানি সাহিত্য। নিষিদ্ধ প্রেম, ঐতিহ্যবাহী খাবার, ঔপনিবেশিক পটভূমি আর দুই নারীর ভ্রমণের রোমাঞ্চকর গল্প নিয়ে চলতি বছরের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতে নিয়েছে ‘তাইওয়ান ট্রাভেলগ’ উপন্যাসটি। এই প্রথম ম্যান্ডারিন চিনা ভাষা থেকে অনূদিত কোনও উপন্যাস বিশ্বখ্যাত এই সাহিত্য পুরস্কার নিজের নামে করল। মূল উপন্যাসের লেখিকা তাইওয়ানের বাসিন্দা ইয়াং শুয়াং-জি এবং এর ইংরেজি অনুবাদ করেছেন তাইওয়ানি-আমেরিকান অনুবাদক লিন কিং। পুরস্কারের নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বুকারের ৫০ হাজার পাউন্ড বা প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকার অর্থমূল্য লেখক ও অনুবাদকের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে।
ইতিহাস ও কল্পনার মেলবন্ধন
‘তাইওয়ান ট্রাভেলগ’ উপন্যাসের পটভূমি গড়ে উঠেছে ১৯৩০-এর দশকে, যখন তাইওয়ান দ্বীপটি জাজল শাসনের অধীনে ছিল। গল্পের মূল চরিত্র কাল্পনিক জাজল লেখক আওমা চিজুকো, যিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় তাইওয়ান সফরে যান। সেখানে গিয়ে তিনি ও চিজুরু নামের এক তাইওয়ানি নারী দোভাষীর গভীর প্রেমে পড়েন। হারিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে খুঁজে পাওয়া ভ্রমণ স্মৃতিকথার আদলে কাল্পনিক পাদটীকা-সহ বইটি এমন চমত্কারভাবে সাজানো হয়েছে যে, ২০২০ সালে প্রথম প্রকাশের পর অনেক পাঠক একে সত্যিকারের ঐতিহাসিক দলিল বলে মনে করেছিলেন। বিচারক প্যানেলের প্রধান নাতাশা ব্রাউন এই উপন্যাসটিকে আকর্ষণীয়, সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
পুরস্কারের প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা
এই ঐতিহাসিক জয় আন্তর্জাতিক মহলে তাইওয়ানের নিজস্ব সংস্কৃতি, বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস ও ঔপনিবেশিক ইতিহাসের প্রতি পাঠকদের আগ্রহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন সাহিত্য সমালোচকরা। এর আগে ২০২৫ সালে কন্নড় ভাষায় লেখা গল্পসংগ্রহ ‘হার্ট ল্যাম্প’-এর জন্য এই খেতাব জিতেছিলেন ভারতীয় লেখিকা বানু মুস্তাক ও অনুবাদক দীপা ভাস্তি। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ম্যান্ডারিন অনুবাদ সাহিত্যের এই স্বীকৃতি বৈশ্বিক প্রকাশনা শিল্পে এশীয় অঞ্চলের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিচ্ছে। পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে লেখিকা ইয়াং শুয়াং-জি রসবোধের সাথে জানান, উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু অর্থাৎ ভ্রমণ ও খাবারের উপর গবেষণা করতে গিয়ে তাঁর সঞ্চয় যেমন কমেছে, ঠিক তেমনই ওজনও বেশ বেড়েছে।