ভোটের ফলের ১৭ দিন পর প্রকাশ্যে! সস্ত্রীক ইস্তফা দিলেন নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর

নন্দীগ্রামে হারের ক্ষতে নতুন ধাক্কা, সস্ত্রীক পঞ্চায়েত সদস্য পদ ছাড়লেন তৃণমূলের পবিত্র!
বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই নিজেকে আড়ালে রেখেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর। দলীয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। অবশেষে ফলাফল ঘোষণার দীর্ঘ ১৭ দিন পর প্রকাশ্যে এলেন তিনি। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে বেশ নাটকীয় রূপ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই সস্ত্রীক বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন পবিত্র কর। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে। ভোটের ফল বিপর্যয়ের ধাক্কা সামলানোর আগেই স্থানীয় স্তরে এই জনপ্রতিনিধির সরে দাঁড়ানো দলীয় শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইস্তফার নেপথ্য কারণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নন্দীগ্রামের মতো প্রেস্টিজ ফাইটে পরাজয়ের পর থেকেই পবিত্র কর তীব্র মানসিক ও রাজনৈতিক চাপে ছিলেন। শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা বৈঠকে যোগ না দেওয়া এবং দীর্ঘ ১৭ দিন অন্তরালে থাকা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, দলের ভেতরের সমীকরণ বা পরাজয়ের দায় নিয়ে তাঁর মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ বা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। নিজের ঘরের মাঠে পঞ্চায়েত সদস্য পদ ত্যাগ করার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার বার্তা দিলেন।
এই পদত্যাগের ফলে নন্দীগ্রাম এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। বিশেষ করে বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে দলের নিয়ন্ত্রণ ও ভোটারদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এই জোড়া ইস্তফা স্থানীয় স্তরে বিরোধীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজয়ের পর দীর্ঘ ১৭ দিন অন্তরালে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর।
- দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ডাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি।
- প্রকাশ্যে এসেই বৃহস্পতিবার সস্ত্রীক বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন পবিত্র।
- এই আকস্মিক ইস্তফায় পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।