‘কুরবানি হবেই, কেউ আটকাতে পারবে না!’ রাজ্যকে চ্যালেঞ্জ সিদ্দিকুল্লার

সরকারি নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল, ইদের আগে কুরবানি ও বন্দে মাতরম বিতর্ক উত্তপ্ত করল রাজ্য রাজনীতি!
আগামী বকরি ইদের আগে গরু ও মহিষ জবাইয়ের ওপর রাজ্য সরকারের আরোপিত আইনি বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন অনুযায়ী, প্রশাসনের লিখিত অনুমতি ছাড়া এবং ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না বলে সাফ জানিয়েছে রাজ্য। সরকারের এই সাম্প্রতিক নির্দেশিকার তীব্র বিরোধিতা করে মাঠে নেমেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জমিয়তে উলেমা-ই-হিন্দের নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট দাবি করেছেন যে, সরকার একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই নিয়ম জারি করেছে এবং তোষণের রাজনীতি করছে। কোনো বিধিনিষেধই ধর্মীয় আচার রুখতে পারবে না এবং শতভাগ কুরবানি হবেই।
ধর্মীয় ভাবাবেগ বনাম আইনি কড়াকড়ি
এই সংঘাতের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে ধর্মীয় রীতি এবং সরকারি আইনের সংঘাত। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে গবাদি পশু জবাইয়ে কোনো বাধা না থাকলে বাংলায় কেন এমন নিয়ম চাপানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উপরন্তু বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতিও এর ওপর নির্ভরশীল। তিনি দাবি করেন, দেশের কোনো মহাপুরুষ কখনো কুরবানির বিরোধিতা করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বকরি ইদের ঠিক মুখে সরকারের এমন প্রশাসনিক তৎপরতা এবং তার পাল্টা ধর্মীয় নেতার হুঁশিয়ারি রাজ্যে এক নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক মেরুকরণের আবহ তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও।
মাদ্রাসায় বন্দে মাতরম বিতর্ক
বিতর্কের জল শুধু কুরবানিতেই থমকে নেই, তা গড়িয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও। রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার যে নির্দেশিকা জারি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবির। তাঁর যুক্তি, মাদ্রাসা হলো সম্পূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে কোরান ও হাদিস মোতাবেক শিক্ষা দেওয়া হয়। সাধারণ সরকারি স্কুলে বন্দে মাতরম গাওয়ায় আপত্তি না থাকলেও, সরকারি সাহায্যহীন মাদ্রাসার ওপর জোরপূর্বক এই নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া ইসলামিক রীতির পরিপন্থী। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান বাধ্যতামূলক করার এই সরকারি সিদ্ধান্ত আগামী দিনে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন জটিলতার সৃষ্টি করতে চলেছে।
এক ঝলকে
- বকরি ইদের আগে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া এবং ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য।
- সরকারি নির্দেশিকাকে চ্যালেঞ্জ করে প্রাক্তন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেকোনো মূল্যেই কুরবানি হবে।
- উত্তর-পূর্বের রাজ্যের উদাহরণ টেনে এই বিধিনিষেধকে তোষণের রাজনীতি ও দ্বিচারিতা বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
- মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন নেতা হুমায়ুন কবির।