অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা পাওয়ার সহজ উপায়! জেনে নিন আপনার অ্যাকাউন্টে DBT লিঙ্ক আছে কি না

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা পাওয়ার সহজ উপায়! জেনে নিন আপনার অ্যাকাউন্টে DBT লিঙ্ক আছে কি না

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে জরুরি ডিবিটি লিঙ্ক, ধোঁয়াশা কাটাতে বার্তা প্রশাসনের

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প নিয়ে। এই নতুন উদ্যোগের আওতায় রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ৩০০০ টাকা করে আর্থিক ভাতা পাবেন। প্রকল্পটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন বিপুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে, ঠিক তেমনই নথিপত্র জমা ও ব্যাঙ্কের নিয়মকানুন নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন ধোঁয়াশা। বিশেষ করে, ভাতার টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফ থেকে ‘ডিবিটি’ বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার-এর প্রসঙ্গটি সামনে আসতেই উপভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

আতঙ্কের কিছু নেই, বিষয়টি অত্যন্ত সহজ

সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা জানিয়েছেন, ডিবিটি নিয়ে বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। বিগত জমানার ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বা বিভিন্ন সরকারি পেনশনের টাকা যেভাবে প্রতি মাসে সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হতো, এ ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম মেনে টাকা পাঠানো হবে। ফলে, রাজ্যের যে সমস্ত মহিলারা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্য কোনও সরকারি ভাতার টাকা ব্যাঙ্কে পাচ্ছেন, তাঁদের এই ডিবিটি লিঙ্ক নিয়ে নতুন করে চিন্তা করার কোনো প্রয়োজন নেই।

কী এই ডিবিটি এবং কেন এটি জরুরি

ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ‘ডিবিটি’ হল একটি ডিজিটাল অর্থপ্রদান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে নাগরিকের ১২ ডিজিটের আধার নম্বরটিকে তাঁর সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সরাসরি জুড়ে দেওয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হল, মাঝপথে কোনও মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরকারি অনুদানের টাকা যাতে সরাসরি এবং সুরক্ষিতভাবে নির্দিষ্ট উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পৌঁছতে পারে। আধার এবং এনপিসিআই ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টটি লিঙ্কড হয়ে গেলে সরকারি দফতর থেকে পাঠানো টাকা এক লহমায় উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে এসে জমা হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ার ফলে আর্থিক জালিয়াতি রোখা সম্ভব হবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে দ্রুত সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যাবে।

ডিবিটি স্ট্যাটাস যাচাই ও সক্রিয় করার উপায়

নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় আছে কি না, তা ঘরে বসেই আধার পোর্টালের (myaadhaar.uidai.gov.in) ‘আধার-ব্যাঙ্ক সিডিং স্ট্যাটাস’ সেকশনে গিয়ে যাচাই করা সম্ভব। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ, কাস্টমার কেয়ার বা সরাসরি হোম ব্রাঞ্চে গিয়েও এটি জানা যায়। যদি আধার সিডিং করা না থাকে, তবে ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম জমা দিয়ে কিংবা নেট ব্যাঙ্কিং ও ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে অনলাইনেই ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই লিঙ্ক সচল করে নেওয়া সম্ভব। নতুন করে আতঙ্কিত না হয়ে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার সুবিধার্থে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কের এই স্ট্যাটাসটি একবার যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন।

এক ঝলকে

  • অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের মহিলারা প্রতি মাসে সরাসরি ৩০০০ টাকা আর্থিক ভাতা পাবেন।
  • সরকারি অনুদান সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠাতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ডের ডিবিটি লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
  • যারা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা সরকারি পেনশন পাচ্ছেন, তাদের নতুন করে এই ডিবিটি লিঙ্ক নিয়ে চিন্তার কারণ নেই।
  • আধার পোর্টাল, ব্যাঙ্কের মোবাইল অ্যাপ বা সরাসরি হোম ব্রাঞ্চে গিয়ে সহজেই ডিবিটি স্ট্যাটাস পরীক্ষা ও সক্রিয় করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *