গুলিতে খতম পুলওয়ামা হামলার অন্যতম চক্রী! পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম জঙ্গি হামজা বুরহান

গুলিতে খতম পুলওয়ামা হামলার অন্যতম চক্রী! পাক অধিকৃত কাশ্মীরে খতম জঙ্গি হামজা বুরহান

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ঘটা নৃশংস ও ভয়াবহ জঙ্গি হামলার প্রত্যাঘাতের রেশ যেন আরও একবার প্রতিধ্বনিত হলো সীমান্ত পেরিয়ে। বৃহস্পতিবার পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মুজফফরাবাদ এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিতে খতম হলো ওই আত্মঘাতী হামলার অন্যতম মূল চক্রী তথা জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) জঙ্গি গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষনেতা হামজা বুরহান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষায় এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যখন কেন্দ্রের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শুভেন্দু অধিকারী সরকারও ‘থ্রি-ডি’ (ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোর্ট)-র মতো কড়া নীতি নিয়ে রাজ্য জুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করেছে, ঠিক তখনই সীমান্ত ওপারের এই হাই-প্রোফাইল খতমের ঘটনা ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করল।

মুজফফরাবাদে অতর্কিত হামলা, সরকারি মহলে নীরবতা

বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মুজফফরাবাদ এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা হামজা বুরহানকে লক্ষ্য করে আচমকাই এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পুলওয়ামা কাণ্ডের এই কুখ্যাত নেপথ্য নায়কের। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা রয়েছে বা ঠিক কী কারণে তাকে টার্গেট করা হলো, তা এখনও পর্যন্ত ধোঁয়াশাই রয়ে গেছে।

কূটনৈতিক স্তরে এই ঘটনার গুরুত্ব অপরিসীম হলেও, পাকিস্তান বা ভারতের সরকারি মহলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিগত কয়েক মাসে পাকিস্তানে একের পর এক ভারত-বিরোধী জঙ্গি নেতার রহস্যমৃত্যুর যে ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, হামজা বুরহানের খতম হওয়া তারই পরবর্তী অধ্যায়।

পুলওয়ামা ক্ষত এবং জইশের দায় স্বীকার

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিসি (CRPF) কনভয়ে ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। ওই নৃশংস হামলায় ভারতের ৪০ জন বীর জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন, যার জেরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে ভারত ‘বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক’-এর মাধ্যমে এর যোগ্য জবাব দেয়। সেই ঘটনার পর থেকে হামজা বুরহান ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকার অন্যতম শীর্ষ নাম ছিল।

নিরাপত্তা মহলের মতে, মোস্ট ওয়ান্টেড এই জঙ্গির খতম হওয়ার খবরটি আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তানের জঙ্গি মদতপুষ্ট পরিকাঠামোর দুর্বলতাকেই আবার প্রমাণ করল। একই সাথে এটি ভারতের সেই সমস্ত শহিদ জওয়ানদের পরিবারের জন্য এক অলিখিত এবং পরোক্ষ ন্যায়বিচার এনে দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *