হালিশহরের পর এবার ভাটপাড়া! ৩টি বাদে সব কাউন্সিলরের ইস্তফায় চরম পুর-সংকট ব্যারাকপুরে

হালিশহরের পর এবার ভাটপাড়া! ৩টি বাদে সব কাউন্সিলরের ইস্তফায় চরম পুর-সংকট ব্যারাকপুরে

কলকাতা পুরসভায় ডামাডোল, বরো চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং মেয়রের ছবি-বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর মহকুমায় শাসকদলের সংগঠনে এক নজিরবিহীন ও চূড়ান্ত ধস নামল। হালিশহর পুরসভার সংকটের পর, এবার কার্যত স্তব্ধ হওয়ার মুখে ভাটপাড়া পুরসভাও। শুক্রবার এক নজিরবিহীন নাটকীয়তায় পুরসভার মোট ৩৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে চেয়ারম্যান রেবা রাহা-সহ ৩০ জন কাউন্সিলরই একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এই গণ-ইস্তফার জেরে শিল্পাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই পুরসভার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক পরিষেবা চরম বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এবং বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী জেলা স্তরে পুরোনো আমলের তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই গণ-ইস্তফা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করাল।

প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে ইস্তফা, তীব্র অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির

পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান রেবা রাহা এবং তাঁর অনুগামী ২৯ জন কাউন্সিলর ব্যারাকপুর প্রশাসনিক ভবনে মহকুমা শাসকের (SDO) দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে এই শিল্পাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় শাসকদলের নজিরবিহীন ভরাডুবির পর থেকেই পুর-বোর্ড টিকিয়ে রাখা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাদুড়িয়ার প্রাক্তন বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিমের বিস্ফোরক মন্তব্য এবং বারাসাতে তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিককে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে গণপিটুনির পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর, ভাটপাড়ার নেতারা বুঝতে পেরেছিলেন যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে তাঁদের পড়তে হবে। একই সাথে, নতুন সরকারের পুলিশ যেভাবে ডায়মন্ড হারবার ও ফলতার সিন্ডিকেট রাজ ভাঙতে সক্রিয় হয়েছে, তার ভয়েই মূলত আইনি জটিলতা এড়াতে এই ‘সেফ এক্সিট’-এর পথ বেছে নিলেন ৩০ জন কাউন্সিলর।

পরিষেবা সচল রাখতে ময়দানে অর্জুন সিং ও সরকারি আধিকারিকেরা

ভাটপাড়া পুরসভার এই নজিরবিহীন সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক সংকটের মাঝেই এলাকার নাগরিকদের আশ্বস্ত করতে ময়দানে নেমেছেন ব্যারাকপুরের প্রভাবশালী বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। পুরসভার রাশ এই মুহূর্তে কার হাতে থাকবে, তা স্পষ্ট করে তিনি জানান।

সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকাঠামো:

  • পরিষেবা ব্যাহত হবে না: পুর-বোর্ডের ৩০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেও ভাটপাড়ার সাধারণ মানুষের জল, আলো বা সাফাইয়ের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবা যাতে কোনোভাবেই থমকে না যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
  • প্রশাসক বসানোর প্রস্তুতি: এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে পুরসভার রাশ আপাতত সম্পূর্ণভাবে সরকারি আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। নবান্নের নির্দেশিকা মেনে খুব শীঘ্রই এখানে সরকারি প্রশাসক (Administrator) নিয়োগ করে কাজ সচল রাখা হবে।

একদিকে বিধানসভার ভেতরে মাত্র ১৮ জন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূলের ঘরে তালা ভাঙার আন্দোলন, অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার একটার পর একটা পুরসভায় এই ধরণের গণ-ইস্তফা ও ভাঙন প্রমাণ করছে যে, তৃণমূলের নিচু তলার সংগঠন এখন পুরোপুরি দিশাহীন। ভাটপাড়ার এই মেগা পতনের পর ব্যারাকপুর মহকুমার বাকি পুরসভাগুলির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *