রাস্তায় নমাজ বন্ধের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, শিফট চালু করে সমাধান গড়ল কলকাতার মসজিদগুলো!

রাস্তায় নমাজ বন্ধের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, শিফট চালু করে সমাধান গড়ল কলকাতার মসজিদগুলো!

কলকাতার রাজাবাজার, পার্ক সার্কাস ও তিলজলার মতো বড় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এবার আর রাস্তা আটকে জুম্মার নমাজ পড়ার চিরপরিচিত ছবি দেখা গেল না। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার পর এই প্রথম শুক্রবারের নমাজ সম্পূর্ণভাবে মসজিদের চারদেয়ালের ভেতরেই সম্পন্ন হলো। ট্রাফিক জ্যাম ও জনদুর্ভোগ এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে কলকাতার মসজিদগুলোতে চালু করা হয়েছে বিশেষ শিফট পদ্ধতি, যা শহরের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলার ক্ষেত্রে একটি বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ।

মসজিদে জোড়া শিফট ও নাখোদা মসজিদের বার্তা

স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে এর আগে বহু মানুষ বাধ্য হয়ে রাস্তায় নমাজ পড়তেন। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এবার প্রতিটি বড় মসজিদে দুটি করে শিফটের ব্যবস্থা করা হয়। নাখোদা মসজিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম শিফটের নমাজ শুরু হয় বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় শিফটটি হয় বেলা ১টা ৩০ মিনিটে। মিশ্র জনসংখ্যার এলাকাগুলোতে অবশ্য একটি শিফটেই নমাজ শেষ করা হয়। নাখোদা মসজিদের মুখপাত্র নাসির ইব্রাহিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশিকা মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামীতেও আর কোনো জুম্মাবারে রাস্তা আটকে নমাজ পড়া হবে না।

আইনশৃঙ্খলার কড়াকড়ি ও সামাজিক প্রভাব

সম্প্রতি রাজাবাজার এলাকায় রাস্তা আটকে নমাজ পড়া নিয়ে পুলিশ ও জনতার মধ্যে বড় ধরনের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধেছিল, যার জল গড়ায় গ্রেফতারি পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, রাস্তা আটকে কোনো ধর্মীয় আচার বরদাস্ত করা হবে না এবং লাউডস্পিকারের আওয়াজও নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এরপরই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়। প্রশাসনের এই কড়া অবস্থান এবং মসজিদ কমিটির বাস্তবসম্মত শিফট পদ্ধতির মেলবন্ধনে শুক্রবার কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে নমাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের ভোগান্তি দূর হলো, অন্যদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ বজায় রেখেই শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হলো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *