নৃশংসতা: নারী পুলিশ কর্মীকে গাড়িতে আটকে গণধর্ষণ! পুলিশের ভয়ে বিষ খেল অভিযুক্ত চালক

তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলা সংলগ্ন ওসুরে এক কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মীকে (ডেটা এন্ট্রি অপারেটর) গাড়ির ভেতরে আটকে রেখে নৃশংসভাবে মারধর ও ধর্ষণের এক অত্যন্ত নারকীয় ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। চেনা পরিচিতির সুযোগ নিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে নিজের টেম্পো ট্রাভেলার গাড়িতে তুলে ওই মহিলার ওপর এই পৈশাচিক অত্যাচার চালায় এক চালক। এই ঘটনায় পুলিশি তদন্ত শুরু হতেই গ্রেফতারির ভয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেই থানায় এসে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে তিনি ওসুরের একটি সরকারি হাসপাতালে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সহানুভূতি ও চাকরির পটভূমি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কৃষ্ণগিরি জেলার সত্যমঙ্গলম গ্রামের বাসিন্দা ওই মহিলার স্বামী পেশায় একজন পুলিশ কনস্টেবল ছিলেন, যিনি ২০১৭ সালে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর অনুকম্পামূলক বা কারুণ্য নিয়োগের (Compassionate Appointment) ভিত্তিতে ওই মহিলা পুলিশ বিভাগে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে চাকরি পান। প্রথমে ধর্মপুরী জেলার থোপ্পুর থানায় কর্মরত থাকলেও, পরবর্তীতে বদলি হয়ে তিনি কৃষ্ণগিরি জেলার পেরিগাই থানা এবং চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ওসুরের অল উইমেন পুলিশ স্টেশনে নিজের ডিউটি করছিলেন।
ছলনা, নৃশংস অত্যাচার ও ধর্ষণের বিবরণ
গত ১৬ মে রাতে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় সত্যমঙ্গলম গ্রামের কাছে বাস থেকে নামেন ওই মহিলা। সেখান থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় তাঁরই গ্রামের বাসিন্দা মূর্তি (৩৭) নামে এক চালক নিজের টেম্পো ট্রাভেলার গাড়ি নিয়ে সেখানে আসে এবং বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মহিলাকে গাড়িতে তোলে। গাড়িটি কিছু দূর যাওয়ার পর একটি নির্জন জায়গায় থামিয়ে মূর্তি ওই মহিলার ওপর চড়াও হয়।
মহিলাটি পুলিশকে জানান, ঘটনার দিন তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল ছিলেন (পিরিয়ড বা ঋতুস্রাবের কারণে)। গাড়িতে ওঠার পরেই মূর্তির উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে তিনি বাধা দিলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর পেটে সজোরে লাথি মারে, যার ফলে তিনি গাড়ির মেঝেতে পড়ে যান। তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা এবং রক্তক্ষরণের মধ্যেও কোনো পাত্তাই না দিয়ে মূর্তি তাঁকে সিটের মাঝখানে চেপে ধরে নির্মমভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে জানালে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
থানায় এসে অভিযুক্তের বিষপান ও তদন্তের অগ্রগতি
চরম আতঙ্কের আবহ কাটিয়ে পরের দিন অর্থাৎ ১৭ মে ভুক্তভোগী মহিলা ভাগলুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তৎক্ষণাৎ মূর্তির গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করে তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে। পুলিশের চারদিকের ঘেরাটোপ ও নিশ্চিত গ্রেফতারির আঁচ পেয়ে দুদিন আগে অভিযুক্ত মূর্তি নিজেই ভাগলুর থানার সামনে এসে বিষ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। ডিউটিতে থাকা পুলিশ কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভরতি করান। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সুস্থ হয়ে উঠলেই তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হবে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ওই মহিলা নিজের অন্ধ মা এবং ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা উল্লেখ করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এক ঝলকে
- ওসুরে এক মহিলা পুলিশ কর্মীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নাম করে টেম্পো ট্রাভেলারে তুলে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে।
- শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও বাধা দেওয়ায় ওই মহিলার পেটে লাথি মেরে এবং সিটের মাঝে বন্দি করে অত্যাচার চালায় অভিযুক্ত মূর্তি।
- নির্যাতিতার স্বামীও একজন পুলিশ কর্মী ছিলেন, যিনি ২০১৭ সালে পথ দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর স্ত্রী এই চাকরিটি পান।
- ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই অভিযুক্ত চালক নিজেই থানায় এসে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।