পুরুষ-সংকটে ধুঁকছে এই দেশ! কেন ঘণ্টার হিসেবে ‘ভাড়াটে স্বামী’ খুঁজছেন সুন্দরীরা?

পুরুষ-সংকটে ধুঁকছে এই দেশ! কেন ঘণ্টার হিসেবে ‘ভাড়াটে স্বামী’ খুঁজছেন সুন্দরীরা?

পুরুষের তীব্র আকাল! ঘরকন্ঠার কাজ সারতে কেন ‘ঘণ্টা চুক্তিতে স্বামী’ ভাড়া করছেন এই দেশের রূপসীরা?

ইউরোপ মহাদেশের একটি অত্যন্ত সুন্দর ও ছোট দেশ ‘লাটভিয়া’। এখানকার মনোরম পরিবেশের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সুখ্যাতি রয়েছে এখানকার বিদুষী ও অনিন্দ্যসুন্দর নারীদের। তবে বর্তমানে এই দেশটি এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। লাটভিয়ায় পুরুষের সংখ্যা এতটাই আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে যে সেখানকার নারীদের জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে পাওয়া একপ্রকার আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতেই সে দেশের নারীরা এখন বেছে নিয়েছেন এক অভিনব পথ— ‘ঘণ্টা চুক্তিতে স্বামী’ (One-hour husband) ভাড়া করা!

কেন তৈরি হলো এমন পুরুষ-সংকট?

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, লাটভিয়ায় প্রতি ১০০ জন মহিলার বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা মাত্র ৮৪ থেকে ৮৫ জন। বয়স ৫০ পেরোনোর পর এই ব্যবধান আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে। এর পেছনে মূলত কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:

  • অকাল মৃত্যু ও আত্মহত্যা: সে দেশের পুরুষদের মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপান, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে অকাল মৃত্যুর হার অনেক বেশি। এমনকি পুরুষদের আত্মহত্যার হার নারীদের তুলনায় প্রায় চার গুণ! লাটভিয়ায় আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি পুরুষ। এর ফলে পুরুষদের গড় আয়ু নারীদের চেয়ে প্রায় ১০ বছর কম।
  • মেধা ও দক্ষতার অমিল: এখানকার নারীরা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি উচ্চশিক্ষিত এবং কর্মজীবনে সফল। অন্যদিকে, ভালো চাকরির আশায় তরুণ ও যুবকেরা দলে দলে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন।বিশিষ্ট লেখিকা ডেস রুকসানে এই নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ও সুন্দরী মেয়েরা কেবল নিজেদের মানসিকতা এবং ক্যারিয়ারের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো যোগ্য সঙ্গী না পেয়ে একাকী জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।

কী এই ‘এক ঘণ্টার স্বামী’ পরিষেবা?

নিজেদের একাকীত্ব এবং ঘরের কাজ সামাল দিতে লাটভিয়ার নারীরা এই অভিনব সমাধান খুঁজে বের করেছেন। রাজধানী রিগাসহ বিভিন্ন বড় শহরে বেশ কিছু সংস্থা এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ‘ওয়ান-আওয়ার হাজব্যান্ড’ বা এক ঘণ্টার স্বামী পরিষেবা দিচ্ছে। কোনো নারী ফোন বা অনলাইনের মাধ্যমে বুকিং করলে, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একজন পুরুষ তাঁর বাড়িতে আসেন। তবে কোনো বৈবাহিক বা রোমান্টিক সম্পর্ক নয়, বরং ঘরের প্রয়োজনীয় কঠোর পরিশ্রমের কাজ যেমন— প্লাম্বিং, টিভি ইন্সটলেশন, আসবাবপত্র মেরামত কিংবা খারাপ বাল্ব বদলে দেওয়ার মতো টুকটাক কাজগুলো এক-দুই ঘণ্টায় নিখুঁতভাবে শেষ করে পারিশ্রমিক নিয়ে চলে যান তিনি।

নারীরা মজা করে বলছেন, “আসল বিয়ে না হলেও, ঘরের কাজ করে দেওয়ার মতো কাউকে তো অন্তত পাওয়া যাচ্ছে!” তবে সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিস্থিতি লাটভিয়ার নারীদের আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল করে তুলছে। আপাতত নিজেদের ক্যারিয়ার, বন্ধু-বান্ধব এবং এই ‘শর্ট-টার্ম হাজব্যান্ড’ সার্ভিসের ওপর ভর করেই দিন কাটছে লাটভিয়ার সুন্দরীদের, তবে মনের মতো আসল জীবনসঙ্গীর খোঁজ কিন্তু এখনো জারি রয়েছে।

এক ঝলকে

  • ইউরোপের দেশ লাটভিয়ায় পুরুষদের গড় আয়ু কম হওয়া এবং বিদেশে পাড়ি দেওয়ার কারণে তীব্র পুরুষ-সংকট দেখা দিয়েছে।
  • প্রতি ১০০ জন নারীর তুলনায় পুরুষের সংখ্যা মাত্র ৮৪-৮৫ জন হওয়ায় যোগ্য জীবনসঙ্গী পাচ্ছেন না সে দেশের উচ্চশিক্ষিত ও সুন্দরী মহিলারা।
  • ঘরকন্ঠার ভারী কাজ সামলাতে লাটভিয়ার রাজধানী রিগা-সহ বিভিন্ন শহরে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘এক ঘণ্টার স্বামী’ বা ঘণ্টা চুক্তিতে পুরুষ ভাড়া করার পরিষেবা।
  • ভাড়ায় আসা পুরুষেরা মূলত প্লাম্বিং, ইলেকট্রিক বা ফার্নিচার মেরামতের মতো যান্ত্রিক কাজগুলো টাকার বিনিময়ে ঘণ্টা চুক্তিতে করে দিয়ে যান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *