‘পদ ছাড়বেন না, মাটি আঁকড়ে থাকুন!’ পুর-বিপর্যয়ের মাঝে কাউন্সিলরদের কড়া বার্তা মমতার

ভাটপাড়া-হালিশহর পুরসভায় বিপর্যয়! কালীঘাটে কাউন্সিলরদের ‘মাটি আঁকড়ে’ থাকার নির্দেশ মমতার
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পৌরসভাগুলোতে তার বড়সড় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ৩৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৯টি এখন তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে রয়েছে। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে কার্যত ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গেছে ঘাসফুল শিবির। এই পরিস্থিতিতে উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পৌরসভায় শুরু হয়েছে কাউন্সিলরদের গণইস্তফার হিড়িক। গত কয়েকদিনে হালিশহর, ভাটপাড়া এবং গারুলিয়া পৌরসভার বহু কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় সংখ্যাতত্ত্বের ভিত্তিতে সেখানকার বোর্ডগুলো অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।
কালীঘাটে কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি বৈঠক
এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই শুক্রবার কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে কলকাতা পৌরসভার (KMC) দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পৌরসভার ক্ষমতা যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “কেউ পদ ছাড়বেন না। এখনও আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত এই পৌরসভার মেয়াদ রয়েছে। ততদিন পর্যন্ত নিজেদের মাটি আঁকড়ে পড়ে থাকুন এবং সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিয়ে যান। আপনারা এখন পদ ছাড়লেই ওরা (বিজেপি) বোর্ড দখল করতে ঝাঁপিয়ে পড়বে।”
শনিবারই রাজপথে নামার নির্দেশ
শুক্রবার কলকাতা পৌরসভার অধিবেশন কক্ষ বন্ধ থাকায় কাউন্সিলরদের একটি ক্লাব ঘরে বসে অধিবেশন করতে হয়েছিল। এই ঘটনাকে ‘বিজেপির গা-জোয়ারি’ বলে আখ্যা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর প্রতিবাদে শনিবারই কলকাতার সমস্ত দলীয় কাউন্সিলরদের রাজপথে নেমে আন্দোলনে শামিল হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এই আন্দোলনের পুরো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে।
কলকাতা পৌরসভায় বর্তমানে তৃণমূলের ১৩৭ জন কাউন্সিলর রয়েছেন, যার মধ্যে শুক্রবারের বৈঠকে ১০০ জন উপস্থিত ছিলেন। দেবাশিস কুমার, তারক সিং, জুঁই বিশ্বাস, বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তের মতো হেভিওয়েট কাউন্সিলররা অবশ্য বিশেষ কারণে এই বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। এদিনের বৈঠকে ভবানীপুরের ৯ নম্বর বরো চেয়ারপার্সন দেবলীনা বিশ্বাসের পদত্যাগের পর, সেই শূন্যপদে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য কাউন্সিলর সন্দীপরঞ্জন বক্সিকে নির্দেশ দেন দলনেত্রী।
বুলডোজার সংস্কৃতির বিরোধিতা ও অভিষেকের বাড়ির নোটিস
এদিনের বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির একটি অংশ ভাঙার নোটিস জারি করার প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এভাবে নোটিস পাঠিয়েই সাথে সাথে কারও বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। পৌরসভা আইনের নিজস্ব নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও নিয়ম আছে। ক্ষমতার বলে বুলডোজার দিয়ে যখনতখন বাড়ি ভাঙা যায় না। বিজেপি স্রেফ গায়ের জোরে এসব করছে।” একই সাথে তিনি কাউন্সিলরদের পরামর্শ দেন, কোনো রকম ভয় পেয়ে পিছিয়ে না গিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জারি রাখতে এবং নিজেদের কর্তব্যে অটল থাকতে।
এক ঝলকে
- ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের হালিশহর, ভাটপাড়া ও গারুলিয়া পৌরসভায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গণইস্তফায় ভাঙনের মুখে বোর্ড।
- পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পৌরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে কালীঘাটে জরুরি বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- ডিসেম্বর পর্যন্ত পৌরসভার মেয়াদ থাকায় কাউন্সিলরদের পদত্যাগ না করে ‘মাটি আঁকড়ে’ সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার নির্দেশ।
- পুর অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখার প্রতিবাদে শনিবারই মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বে আন্দোলনে নামছে তৃণমূল।
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ভাঙার নোটিসের বিরোধিতা করে বিজেপির ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’র বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ মমতার।