তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুতির পর এবার কি ভাঙা পড়বে অভিষেকের বাড়ি! প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারালেন নেতা

তৃণমূলের ক্ষমতাচ্যুতির পর এবার কি ভাঙা পড়বে অভিষেকের বাড়ি! প্রশ্নের মুখে মেজাজ হারালেন  নেতা

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ঘরে-বাইরে তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একদিকে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে আদালত পর্যন্ত জল গড়ানো, আর অন্যদিকে তাঁর ‘শান্তিনিকেতন’ বাসভবনসহ একাধিক সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে সাঁড়াশি আক্রমণে শাসক শিবিরের প্রাক্তন এই দাপুটে নেতা। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ির বাড়তি নির্মাণ নিয়ে নোটিস পাঠানো এবং বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল উত্তাল।

এই চরম উত্তেজনার আবহেই কালীঘাটে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে বেরনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বাড়ির অবৈধ নির্মাণ ও পুরসভার নোটিস সংক্রান্ত প্রশ্ন ধেয়ে আসতেই কার্যত মেজাজ হারান তিনি। চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে, সাংবাদিকদের দিকে আঙুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন বাড়ির কোন অংশটা অবৈধ। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন, উত্তর দেব।”

ক্ষমতার অলিন্দে ভাঙনের আঁচ ও নেত্রীর ক্ষোভ

রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর নবান্নের ক্ষমতা হাতছাড়া হলেও কলকাতা পুরসভা ধরে রাখতে মরিয়া ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরসভায় সম্ভাব্য দলবদল বা ভাঙনের আগাম আঁচ পেয়েই কাউন্সিলরদের নিয়ে এই জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বৈঠকেও মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে অভিষেকের বাড়ি ভাঙার নোটিস। বৈঠকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, বিনা নোটিসে বা শুনানির সুযোগ না দিয়ে এভাবে বুলডোজার চালানো যায় না। নির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও আইনি পরামর্শ না মেনে গা-জোয়ারি করে কাজ চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কোণঠাসা নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই দলের ভেতরেও অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সুর চড়তে শুরু করেছে। অভিষেককে পাঠানো পুরসভার নোটিস প্রসঙ্গে কলকাতার মেয়র যেখানে হাত ধুয়ে ফেলেছেন, সেখানে কুণাল ঘোষ বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতারা একে ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ বলে এড়িয়ে গেছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরে একাকীত্ব এবং আইনি ও প্রশাসনিক চাপই অভিষেকের এই চরম মেজাজ হারানোর মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা আগামী দিনে কলকাতা পুরসভার অন্দরে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ আরও শিথিল করতে পারে এবং দলটির অন্দরমহলের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *