ঋণগ্রস্ত মহামেডান বাঁচাতে এবার নওশাদ ও হুমায়ুনের দ্বারস্থ ক্লাব কর্তৃপক্ষ, পাঠানো হলো চিঠি

দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ইনভেস্টর বা স্পনসর সমস্যা এবার এক নতুন মোড় নিল। টানা দুই মরশুম ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (আইএসএল) খেলার পরও ক্লাবের আর্থিক সংকটের কোনো সমাধান হয়নি, উল্টো দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকায়। এই চরম সংকটজনক পরিস্থিতিতে ক্লাব পরিচালনায় স্পনসর আনতে এবার রাজ্যের দুই প্রভাবশালী সংখ্যালঘু বিধায়ক তথা ভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা নওশাদ সিদ্দিকী এবং হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ হয়েছেন মহামেডান কর্তারা।
আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক তৎপরতা
কয়েক মাস আগে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) প্রধান নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন রাজ্য সরকার ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের মতো মহামেডানের পাশে দাঁড়ায়নি। সাদা-কালো ব্রিগেডের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করা হচ্ছে দাবি করে নওশাদ সেসময় জানান, ক্লাব কর্তৃপক্ষ চাইলে তিনিই বড় স্পনসরের ব্যবস্থা করে দিতে পারেন। অন্যদিকে, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরও ক্লাবের সমস্যা মেটাতে ইতিপূর্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁদের এই সদিচ্ছার কথা জানতে পেরে এবার সরাসরি তাঁদের একযোগে চিঠি পাঠিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে চিঠি পাঠানো হয়েছে বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক সিংকেও।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য প্রভাব
নওশাদ সিদ্দিকীকে পাঠানো চিঠিতে ক্লাবের উন্নয়ন ও ইনভেস্টর নিয়ে তাঁর বৃহত্তর ভাবনা জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে সরাসরি ক্লাব প্রশাসনে যোগ দিয়ে কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ক্লাব যদি উপযুক্ত ইনভেস্টর পেয়ে যায়, তবে আগামী মরশুমের জন্য শক্তিশালী দল গঠন এবং সুষ্ঠুভাবে ক্লাব পরিচালনা করা সম্ভব হবে। তবে এই উদ্যোগ সফল না হলে আগামী দিনে মহামেডান কর্তারা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও দ্বারস্থ হতে পারেন বলে জানা গেছে।