দলে ঠাঁই নেই ঋতব্রত বা পরমব্রতের, দলবদল নিয়ে সাফ কথা শমীকের
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,801&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর যখন রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতের চেনা সমীকরণগুলো ওলটপালট হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই দুই ‘ব্রত’-র ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া যাবতীয় জল্পনা এক ঝটকায় উড়িয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক সাক্ষাৎ এবং অন্যদিকে টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওয় অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের ‘সুরবদল’— এই দুই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুক্রবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপিতে কোনও ঋতব্রত, পরমব্রত কিংবা চিত্তব্রতদের জায়গা নেই।
নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক গুঞ্জন
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার দিল্লি সফরে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকের ফাঁকেই দিল্লির পুরনো বঙ্গভবনে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রতের মুখোমুখি হন তিনি। রাজনৈতিক বৈরিতা ভুলে তৃণমূল বিধায়কের কাঁধে হাত দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। ঋতব্রত এই সাক্ষাৎকে সম্পূর্ণ আকস্মিক ও সৌজন্যমূলক দাবি করলেও, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর ক্ষমতার বৃত্তে টিকে থাকতে তিনি বিজেপির হাত ধরতে চাইছেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
ঠিক একই রকম ‘সুরবদল’ লক্ষ্য করা গিয়েছে টলিউড তথা গ্ল্যামার জগতেও। অভিনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের ডাকে আয়োজিত একটি বৈঠকে সম্প্রতি উপস্থিত হয়েছিলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেখানে অতীতের এক যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলে আবেগঘন গলায় পরমব্রত জানান, ফেডারেশনের সঙ্গে সংঘাতের জেরে কয়েক মাস আগে সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, বাধ্য হয়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। একদা বিদায়ী শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা পরমব্রতের এই ক্ষোভ প্রকাশের পর থেকেই চলচ্চিত্র মহলে গুঞ্জন শুরু হয় যে তিনি এবার সময়ের নিয়মে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলাতে চাইছেন।
সম্ভাব্য প্রভাব ও কড়া বার্তা
এই দুই ‘ব্রত’-র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনায় জল ঢেলে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন যে বিজেপির ব্রত একটাই, সেখানে কোনও ঋতব্রত বা পরমব্রতদের স্থান হবে না। বিজেপির এই কড়া অবস্থানের ফলে নির্বাচন-উত্তর আবহে তৃণমূলের দলবদলু নেতাদের জন্য গেরুয়া শিবিরের দরজা যে আপতত বন্ধ, সেই বার্তাই স্পষ্ট হলো।
একই সঙ্গে কলকাতা পুরসভার বর্তমান অচলাবস্থার জন্য বিদায়ী শাসকদলকে নিশানা করার পাশাপাশি রাজ্য বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের ঘর-বিতর্ক ও বিরোধী দলনেতা নির্বাচন নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, তৃণমূলের নিজস্ব বিধায়করাই প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে ফোন করছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন-উত্তর আবহে একদিকে দলবদলের চোরাস্রোত আর অন্যদিকে বিজেপির কড়া অবস্থান রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।