কোন অংশটা বেআইনি আগে নির্দিষ্ট করে বলুক! বাড়ি ভাঙার নোটিস নিয়ে ফুঁসে উঠলেন অভিষেক

কলকাতা পুরসভার পাঠানো বাড়ি ভাঙার নোটিসকে কেন্দ্র করে এবার পাল্টা সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে দলের কাউন্সিলরদের জরুরি বৈঠক শেষে নিজের বাড়ি ভাঙার নির্দেশিকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড সাফ জানান, আগে নির্দিষ্ট করে বলা হোক তাঁর বাড়ির কোন অংশটি বেআইনি, তারপর এই বিষয়ে প্রশ্ন করা যাবে।
বিগত বেশ কয়েক দিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি প্রধান বাসস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে চর্চা তুঙ্গে। এর একটি হলো হরিশ মুখার্জি রোডের প্রাসাদোপম বহুতল ‘শান্তিনিকেতন’ এবং অন্যটি ১২১ কালীঘাট রোডের বাড়ি। কলকাতা পুরসভার পাঠানো জোড়া নোটিসকে কেন্দ্র করেই আপাতত এই দুই সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, শুধু এই দুটিই নয়, বালিগঞ্জ ও তিলজলা-সহ অভিষেকের মোট ১৭টি সম্পত্তি বর্তমানে তাঁদের আতসকাচের তলায় রয়েছে।
পুরসভার হুঁশিয়ারি ও অভিষেকের অনড় অবস্থান
প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ভবানীপুর এলাকার ওই দুটি বাড়ির দেওয়ালেই নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, এই দুই ঠিকানার নির্মাণে মূল নকশার বাইরে গিয়ে বেশ কিছু ‘প্ল্যান-বহির্ভূত’ অংশ তৈরি করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। নোটিসে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ওই বেআইনি অংশ নিজেদের উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে হবে, অন্যথায় পুরসভাই বুলডোজার নামিয়ে সেই অবৈধ নির্মাণ গুঁড়িয়ে দেবে। পুরসভার এই চরম হুঁশিয়ারির জবাবেই সুনির্দিষ্ট প্রমাণের দাবি তুলে পাল্টা রণং দেহি মেজাজে অবতীর্ণ হয়েছেন অভিষেক।
রাজনৈতিক সংঘাত ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর আগে দলের বিধায়কদের নিয়ে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও ক্ষোভ উগরে দিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ি ভেঙে দিলেও তিনি কোনও অবস্থাতেই মাথা নত করবেন না। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, এমন মানসিকতার মুখ্যমন্ত্রী বাংলা আগে কখনও দেখেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরসভার এই পদক্ষেপের পর আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে পারে। একদিকে পুরসভা যেখানে নিয়মের কথা বলে কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিচ্ছে। ফলে আগামী দিনে এই নোটিসকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক টানাপোড়েন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।