সংঘাতের মাঝেই কি ট্রাম্পের অনাস্থার শিকার হলেন তুলসী গ্যাবার্ড!

সংঘাতের মাঝেই কি ট্রাম্পের অনাস্থার শিকার হলেন তুলসী গ্যাবার্ড!

মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে পদত্যাগ করলেন জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে আগামী ৩০ জুন থেকে নিজের পদত্যাগ কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চলমান তীব্র উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এই প্রভাবশালী গোয়েন্দা প্রধানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা মার্কিন রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মহলে তুমুল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

পারিবারিক কারণ বনাম প্রশাসনিক অনাস্থা

পদত্যাগপত্রে তুলসী গ্যাবার্ড বিদায়ের মূল কারণ হিসেবে তাঁর স্বামীর গুরুতর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী বোন ক্যান্সারে (অস্থি মজ্জার ক্যান্সার) আক্রান্ত এবং আগামী দিনগুলো তাঁদের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকতেই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন।

তবে ওয়াশিংটনের প্রশাসনিক মহলে এই পদত্যাগ নিয়ে ভিন্ন গুঞ্জনও রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের একাংশের দাবি, গ্যাবার্ড আসলে গোয়েন্দা প্রধানের পদটি উপভোগ করছিলেন না এবং স্বামীর অসুস্থতাকে তিনি দায়িত্ব থেকে সম্মানজনকভাবে সরে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এই গুঞ্জনের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক দূরত্ব ও অনাস্থা।

প্রেসিডেন্টের অসন্তোষ ও গোয়েন্দা বিতর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে আমেরিকার নতুন করে সংঘাত শুরুর পর থেকেই গোয়েন্দা প্রধানের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সম্প্রতি গ্যাবার্ডের নেতৃত্বাধীন গোয়েন্দা দপ্তর একটি রিপোর্টে জানায়, ইরানের হাতে কোনো বিপজ্জনক পারমাণবিক অস্ত্র নেই। এই রিপোর্টে বেজায় চটে যান ট্রাম্প। এমনকি ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছিলেন যে, তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক গোয়েন্দা রিপোর্টের প্রয়োজন নেই এবং তিনি নিজের সূত্র থেকেই জানেন ইরান কতটা ভয়ংকর। শীর্ষ নেতৃত্বের এমন প্রকাশ্য অনাস্থার পরই গ্যাবার্ডের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ত্বরান্বিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে হামলার পর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে এই শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানের পদটি তৈরি করা হয়েছিল। সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তুলসী গ্যাবার্ডকে ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক সদস্য হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছিলেন।

সম্ভাব্য প্রভাব

ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যখন চূড়ান্ত পর্বের কূটনৈতিক ও সামরিক টানাপোড়েন চলছে, ঠিক তখনই শীর্ষ গোয়েন্দা প্রধানের এই বিদায় মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ে সাময়িক শূন্যতা তৈরি করতে পারে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *