আর জি কর কাণ্ডের পর এবার চূড়ান্ত খাঁড়া, বিভাগীয় তদন্তের মুখে ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র অভীক দে!

আর জি কর কাণ্ডের পর এবার চূড়ান্ত খাঁড়া, বিভাগীয় তদন্তের মুখে ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র অভীক দে!

আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার পর রাজ্যজুড়ে চিকিৎসকদের যে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির সিন্ডিকেট সামনে এসেছিল, তার অন্যতম মূল মাথা ডাঃ অভীক দে-র ওপর এবার বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (MES) শাখা থেকে একটি কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ডাঃ অভীক দে-র বিরুদ্ধে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ডিপার্টমেন্টাল প্রসিডিংস বা বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর আগে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ভুরি ভুরি অভিযোগের জেরে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা সাসপেন্ড করা হয়েছিল। এবার সেই সাসপেনশনের মেয়াদ চলাকালীনই তাঁর বিরুদ্ধে এই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হওয়ায় তাঁর চাকরিটাই চিরতরে খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল হল। তিনি পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওডায়াগনোসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও (RMO) ছিলেন এবং পরবর্তীকালে কলকাতার আইপিজিএমইআর (SSKM) হাসপাতালে জেনারেল সার্জারির প্রথম বর্ষের ইন-সার্ভিস পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হিসেবে কাজ শুরু করেন।

কাঠগড়ায় ‘সার্ভিস কোটা’ ও পৃথক তদন্তের নির্দেশ

স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, অভীক দে-র বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের গভীরতা ও গুরুত্ব খতিয়ে দেখার পরই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়, আর জি কর আবহে তাঁর ক্ষমতার যে দাপট দেখা গিয়েছিল, তার শিকড় কতটা গভীরে তা উপড়ে ফেলতে এবার আরও একটি পৃথক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যপালের অনুমোদনের ভিত্তিতে ডাঃ অভীক দে ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রভাবশালী মহলের হাত ধরে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্সে ভর্তি হওয়ার ছাড়পত্র পেলেন, তা নিয়ে একটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করা হবে। নবান্নের একটি সূত্রের দাবি, প্রভাব খাটিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে এই আসন হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই তদন্তের মূল উদ্দেশ্য।

ভিজিল্যান্সের নজর ও সম্ভাব্য প্রভাব

নোটিফিকেশনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সাসপেনশনে থাকা অভীক দে-র বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোরতম প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশের কপি রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা দফতর (DME), ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস (DHS), আইপিজিএমইআর (SSKM) কর্তৃপক্ষ, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং স্বাস্থ্য দফতরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিজিল্যান্স শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেডিক্যাল কাউন্সিলের পর এবার সরকারের এই সাঁড়াশি তদন্তের মুখে পড়ে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগে অভীক দে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘উত্তরবঙ্গ লবি’র বাকি সদস্যরা। জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশের মতে, এই ধরণের প্রভাবশালী চিকিৎসকদের ডানা ছাঁটা চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ফেরাতে অত্যন্ত জরুরি ছিল এবং বিলম্বে হলেও স্বাস্থ্য দফতরের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে হাসপাতালের কর্মসংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *