যেমন কথা তেমন কাজ, বাংলায় এবার পুরোদমে চালু হচ্ছে কেন্দ্রের বিশ্বকর্মা যোজনা!

পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শিল্পী ও কারিগরদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্যে পুরোদমে চালু হতে চলেছে কেন্দ্রের ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’। দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে এই প্রকল্পটিকে দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়িত করার উদ্দেশ্যে গত ২২ মে নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব তথা উন্নয়ন কমিশনার ড. রজনীশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। নবান্নে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পরপরই প্রকল্প রূপায়ণের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
এর আগে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, পূর্বতন সরকার যে প্রকল্পটি এ রাজ্যে লাগু করেনি, তা চালু করার বিষয়ে নতুন বিজেপি সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাজ্য সরকারের সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় তৎপরতা শুরু করেছে কেন্দ্র ও রাজ্য। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে একটি রাজ্য নজরদারি কমিটি (State Monitoring Committee) এবং প্রতিটি জেলায় ‘জেলা বাস্তবায়ন কমিটি’ (District Implementation Committee) গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক ছাড়পত্র মেলার পর প্রকল্পটিকে দ্রুত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কোমর বেঁধে নামছে উভয় পক্ষ।
প্রান্তিক কারিগরদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সুনির্দিষ্ট কৌশল
নবান্নের বৈঠকে ‘প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকর্মা যোজনা’র কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক স্তরের প্রকৃত ঐতিহ্যবাহী কারিগর এবং হস্তশিল্পীদের নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং প্রকল্পের পরিধি আরও প্রসারিত করার বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে জোরালো আলোচনা হয়েছে। বিশ্বকর্মা যোজনার পাশাপাশি এ রাজ্যে চালু থাকা অন্যান্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংক্রান্ত প্রকল্পগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়।
অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও গ্রামীণ পরিকাঠামোয় সম্ভাব্য প্রভাব
এই উদ্যোগের ফলে বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কামার, কুমোর, সূত্রধর বা তাঁতিদের মতো শ্রমজীবী মানুষ সরাসরি কেন্দ্রের আর্থিক ও কারিগরি সুফল পাবেন, যা তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা নেবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের সামগ্রিক ক্ষুদ্র শিল্প পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন জোয়ার আসবে এবং কর্মসংস্থানের পরিধি আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।