দক্ষিণে অস্বস্তিকর গরমের দাপট, উত্তরে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ধসের আশঙ্কা

দক্ষিণে অস্বস্তিকর গরমের দাপট, উত্তরে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে ধসের আশঙ্কা

মে মাসের শেষ সপ্তাহে এসে একই রাজ্যে আবহাওয়ার দুই ভিন্ন রূপ দেখা যাচ্ছে। একদিকে যখন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে ভাসতে চলেছে, ঠিক তখনই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বজায় থাকবে চরম অস্বস্তিকর গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সাত দিন রাজ্যজুড়ে এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন আবহাওয়াবিদেরা।

আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই মুহূর্তে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উঁচুতে দক্ষিণ বিহার এবং সংলগ্ন এলাকায় একটি উচ্চ বায়ুমণ্ডলীয় ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। পাশাপাশি, একটি উত্তর-দক্ষিণ অক্ষরেখা ওই ঘূর্ণাবর্ত থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ড, উত্তর ছত্তিসগড় এবং অভ্যন্তরীণ ওড়িশার ওপর দিয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রবল জলীয় বাষ্পের দাপট। এই অনুকূল পরিস্থিতির জেরেই উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়িতে রেকর্ড পরিমাণ ভারী বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের ঝাড়গ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কলকাতায় পারদ ছুঁয়েছে ৩৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে।

উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস ও সম্ভাব্য প্রভাব

আগামী ২৫ মে পর্যন্ত জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা রয়েছে। দার্জিলিং ও কালিম্পঙেও ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। টানা এই বৃষ্টির জেরে দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলার পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা পর্যটন ও যাতায়াতে প্রভাব ফেলতে পারে। ২৭ থেকে ২৯ মে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও কালবৈশাখীর মতো ঝোড়ো হাওয়া বজায় থাকবে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে আগামী ৪ দিন দিনের তাপমাত্রার তেমন কোনও বড় রদবদল হবে না। উপকূলের জেলাগুলিতে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮৫-৯৫ শতাংশ ছুঁতে পারায় চরম ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর গরম বজায় থাকবে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ২-৪ ডিগ্রি বেশি থাকবে। তবে আগামী ২৭ মে থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হতে পারে এবং ২৮ ও ২৯ মে ভালো রকমের ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে পারে। এই চরম ভ্যাপসা আবহাওয়ার জেরে শিশু এবং বয়স্কদের শারীরিক সমস্যা হতে পারে বিধায় চিকিৎসকেরা বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত একটানা রোদে না থাকার এবং পর্যাপ্ত জল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *