গরমের ছুটি ফুরোতেই তৎপরতা, সব জেলার স্কুল পরিদর্শকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে বিকাশ ভবন

রাজ্যে গরমের ছুটি কাটিয়ে পুনরায় বিদ্যালয় খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই আবহে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও সুসংহত করতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পর্যালোচনামূলক বৈঠক ডাকল বিকাশ ভবন। আগামী ২৮ এবং ২৯ মে রাজ্যের সমস্ত জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং স্কুলশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের দফতরে পাঠানো হয়েছে।
পরিবর্তিত সূচি অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘ভার্চুয়াল’ বা অনলাইন মাধ্যমে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। গুগল মিটের লিঙ্ক বা কিউআর কোড স্ক্যান করে সব জেলার স্কুল পরিদর্শকদের এই বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের সুবিধার্থে সমগ্র রাজ্যকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই দিনে ভাগ করে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথম দিন অর্থাৎ ২৮ মে দুপুর ১২টায় উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন জেলা এবং দ্বিতীয় দিন ২৯ মে দুপুর ১২টায় দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার দিকের জেলাগুলিকে নিয়ে আলোচনা হবে।
৯ দফা আলোচ্যসূচি ও বন্দে মাতরম প্রসঙ্গ
বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, দুই দিনের এই বিশেষ বৈঠকে মোট ৯টি সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রশাসনিক স্তরে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যালয়গুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার সূচনা করা। এর পাশাপাশি সরকারি স্তরে কৃচ্ছ্রসাধন বা খরচ সংকোচন নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
একই সঙ্গে আইসিটি এবং আধার সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা, স্কুলগুলিতে সময়মতো সরকারি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ এবং ১০০ পয়েন্ট রোস্টার সংক্রান্ত বিষয়গুলি এই বৈঠকের মূল এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
শিক্ষা মহলের মতে, এই বৈঠকের মাধ্যমে রাজ্য স্কুলশিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড়সড় সংস্কার ও সিদ্ধান্তের প্রতিফলন ঘটতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যুক্তিযুক্তকরণ বা রদবদল (টিচার র্যাশনালাইজেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্কুলগুলিতে শিক্ষক ঘাটতি মেটানোর একটি বড় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে গ্রামীণ ও শহরের বিদ্যালয়গুলির মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এ ছাড়া মানবিক কারণে চাকরির আবেদনসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পেনশন সংক্রান্ত বকেয়া মামলার জট খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আইনি ও মানবিক বিষয়গুলির দ্রুত সমাধান হবে, যা শিক্ষা দফতরের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং শিক্ষক মহলের ক্ষোভ প্রশমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।