আইনি লড়াই ও আন্দোলনের ডাক, কাউন্সিলরদের ইস্তফা না দেওয়ার কড়া বার্তা মমতার
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,628&ssl=1)
কলকাতা পুরসভার অধিবেশন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনা এবং রাজনৈতিক চাপানউতোরের আবহে তীব্র উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে দলের কাউন্সিলরদের পাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাটে কলকাতা পুরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কোনো পরিস্থিতিতেই কেউ যেন পদত্যাগ না করেন। রাজনৈতিক চাপের মুখে দল যে সবরকমভাবে জনপ্রতিনিধিদের পাশে থাকবে, এই বৈঠকের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হলো।
তালা-বিতর্ক ও তৃণমূলের রাজনৈতিক প্রতিরোধ
কলকাতা পুরসভার নির্ধারিত মাসিক অধিবেশনের দিন মূল সভাকক্ষের দরজায় তালা ঝুলতে দেখে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয় শাসক শিবিরের অন্দরে। মূল কক্ষে ঢুকতে না পেরে শেষ পর্যন্ত বিকল্প একটি ঘরে চেয়ারম্যান ও মেয়রের উপস্থিতিতে সভা করতে বাধ্য হন তৃণমূল কাউন্সিলররা। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে আখ্যা দিয়ে ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধর্ণা ও রাজনৈতিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। একই সঙ্গে আইনি জটিলতা তৈরি হলে দলগতভাবে তা মোকাবিলার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাড়ি বাড়ি নোটিস পাঠানো এবং দেবলীনা বিশ্বাসের মতো কাউন্সিলরের পদত্যাগের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূল সুপ্রিমো স্পষ্ট করেছেন যে, কোনো চাপের মুখে মাথা নত করা হবে না।
মনোবল চাঙ্গা রাখার কৌশল ও দূরগামী প্রভাব
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বার্তার পেছনে রয়েছে দলের অন্দরে তৈরি হওয়া সাময়িক সংশয় দূর করা এবং কাউন্সিলরদের মনোবল চাঙ্গা রাখার কৌশল। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে পাঁচ বছরের জন mandato বা রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে নিজেদের কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এই অনমনীয় অবস্থান আগামী দিনে পুরসভার প্রশাসনিক কাজে শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একই সাথে, আইনি লড়াইয়ের এই ঘোষণা নিচুতলার কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের প্রতিরোধ গড়ে তোলার নতুন মেরুকরণ তৈরি করবে।