১৪ বছর পর ফের কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, কোন কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন!

১৪ বছর পর ফের কলকাতায় মার্কিন বিদেশসচিব, কোন কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে ওয়াশিংটন!

দীর্ঘ ১৪ বছরের খরা কাটিয়ে ফের কলকাতায় পা রাখছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। শনিবার চার দিনের ভারত সফরের শুরুতেই তাঁর কলকাতায় আগমন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর নতুন বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে ২০১২ সালে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব হিলারি ক্লিন্টন যখন কলকাতায় এসেছিলেন, তখনও রাজ্যে সদ্য রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছিল। এবারও একই রকম রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কূটনীতিকের এই আগমন বিশেষ বার্তা বহন করছে।

চার দিনের এই ভারত সফরে কলকাতার পাশাপাশি আগ্রা, জয়পুর এবং নয়াদিল্লি যাওয়ার কথা রয়েছে মার্কো রুবিওর। তবে সফরের সূচনাস্থল হিসেবে কলকাতাকে বেছে নেওয়া নিছক কোনো প্রোটোকল নয়। ১৭৯২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের হাত ধরে কলকাতায় ভারতের প্রথম মার্কিন কূটনৈতিক কেন্দ্রের সূচনা হয়েছিল, যা বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন মার্কিন কনস্যুলেট। বর্তমানে এই কনস্যুলেট পশ্চিমবঙ্গসহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের ১১টি রাজ্যের কূটনৈতিক স্বার্থ দেখভাল করে। ফলে কলকাতার ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বই তাকে মার্কিন বিদেশসচিবের প্রথম গন্তব্য হিসেবে স্থান করে দিয়েছে।

সফরের কারণ ও কৌশলগত সমীকরণ

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের পেছনে একাধিক ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণ রয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণ এবং পূর্ব ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলকে বিশেষ নজরে রাখছে। সফর শুরুর আগে রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং ভারতের চাহিদামতো পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করতে আমেরিকা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে, ভারত সফরে ‘কোয়াড’ গোষ্ঠীর সদস্য দেশগুলির মন্ত্রীদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

পূর্ব ভারতের ভূরাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

মার্কিন বিদেশসচিবের এই সফরের ফলে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে মার্কিন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক কৌশলগত অবস্থান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের আন্তর্জাতিক সীমানাগুলির কারণে সামগ্রিক বাণিজ্যিক করিডর গঠনে কলকাতা কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত এবং এশীয় অঞ্চলের ক্ষমতা ভারসাম্যের রাজনীতিতে পূর্ব ভারতকে সামনে রেখে আমেরিকা আসলে নয়াদিল্লির পাশাপাশি এই অঞ্চলের নতুন রাজ্য সরকারকেও এক বিশেষ অংশীদারিত্বের বার্তা দিল বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *