১০ দিনে তৃতীয়বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম, সবচেয়ে বড় ধাক্কা কলকাতায়!

১০ দিনে তৃতীয়বার বাড়ল পেট্রল ও ডিজেলের দাম, সবচেয়ে বড় ধাক্কা কলকাতায়!

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে দেশের বাজারে আবারও বড় ধাক্কা খেল জ্বালানি তেল। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে এই নিয়ে তৃতীয়বার পেট্রল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হলো। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলোর নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকেই দেশজুড়ে কার্যকর হয়েছে বর্ধিত এই মূল্য। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ধাপে ধাপে সেই চাপ খুচরো বাজারেও এসে পড়ছে।

জ্বালানির এই দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মহানগরের সাধারণ মানুষ। গত ১৫ মে থেকে শুরু করে এই তিন দফায় পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। প্রথমে ১৫ মে এক ধাক্কায় প্রতি লিটারে ৩ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছিল, এরপর ১৯ মে ফের প্রায় ৯০ পয়সা বৃদ্ধি পায় এবং শনিবার তা আরও এক দফা বাড়ল।

চার মহানগরে জ্বালানির নতুন দর

নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী দেশের চার প্রধান মহানগরেই জ্বালানির গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। দিল্লিতে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৯ টাকা ৫১ পয়সা এবং ডিজেল বিকোচ্ছে ৯২ টাকা ৪৯ পয়সায়। মুম্বইয়ে প্রতি লিটার পেট্রল ১০৮ টাকা ৪৯ পয়সা এবং ডিজেল ৯৫ টাকা ২ পয়সা হয়েছে। চেন্নাইয়ে পেট্রল ও ডিজেলের দাম দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১০৫ টাকা ৩১ পয়সা এবং ৯৬ টাকা ৯৮ পয়সা। তবে সব শহরকে ছাপিয়ে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখেছে কলকাতা। কলকাতায় এখন প্রতি লিটার পেট্রল কিনতে খরচ হচ্ছে ১১০ টাকা ৬৪ পয়সা এবং ডিজেলের দাম পৌঁছেছে ৯৭ টাকা ২ পয়সায়।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব

তেল সংস্থাগুলির স্পষ্ট বক্তব্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে। আমদানি খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণেই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের কথা মাথায় রেখে এক ধাক্কায় বড় অঙ্কের টাকা না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে দাম বাড়ানোর পথেই হাঁটছে সংস্থাগুলো।

এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের পকেটে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই পণ্য পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজারদরের ওপর। ব্যবসায়ী মহল ইতিমধ্যেই পণ্য পরিবহণ খরচ বাড়ার আশঙ্কায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামী দিনেও জ্বালানির বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকবে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *