এক চোখ ঢাকা ব্যাটিংয়ে ৭০ রান, কলকাতায় বাবার অদম্য লড়াইয়ের গল্প শোনালেন আবেগঘন সইফ

এক চোখ ঢাকা ব্যাটিংয়ে ৭০ রান, কলকাতায় বাবার অদম্য লড়াইয়ের গল্প শোনালেন আবেগঘন সইফ

কলকাতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘টাইগার পতৌদি মেমোরিয়াল লেকচারে’ এসে পিতা মনসুর আলী খান পতৌদির জীবনের এক অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের কাহিনী নতুন করে তুলে ধরলেন বলিউড তারকা সইফ আলি খান। মাত্র ২১ বছর বয়সে ভারতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেওয়া কিংবদন্তি ‘টাইগার’ পতৌদির জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায় এবং মাঠে তাঁর অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প আজ বিনোদন ও ক্রীড়ামোদিদের আবেগতাড়িত করেছে।

ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম সেরা ট্র্যাজেডি ও কামব্যাক

কেরিয়ারের একেবারে সোনালী সময়ে এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন পতৌদি। সইফ আলি খান জানান, চিকিৎসকরা তখন জানিয়েছিলেন যে পতৌদি প্রায় ৯৯ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন, যা ছিল তাঁর ক্রিকেট জীবনের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। পরবর্তীতে কন্ট্যাক্ট লেন্সের সাহায্যে কিছুটা দৃষ্টি ফিরে পেলেও মাঠে মানিয়ে নেওয়া ছিল চরম চ্যালেঞ্জের। লেন্স পরে খেলতে গিয়ে চোখের সামনে একটির জায়গায় দুটি বল দেখতেন তিনি। কিন্তু এই পর্বতসম প্রতিবন্ধকতাও তাঁর ক্রিকেটীয় জেদকে দমাতে পারেনি।

এক চোখ ঢেকে অনন্য লড়াই

ইংল্যান্ড সফরের একটি ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে সইফ জানান, লেন্স পরে খেলতে সমস্যা হওয়ায় মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই লেন্স খুলে ফেলেন পতৌদি। এরপর স্রেফ এক চোখ ঢেকে, একক দৃষ্টির ওপর ভরসা করে ব্যাটিং চালিয়ে যান এবং ৭০ রানের একটি অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। এই অসামান্য মানসিক দৃঢ়তাই পরবর্তীতে তাঁকে ভারতীয় দলে জায়গা করে দেয়। নিজের এই শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে কোনোদিন দুর্বলতা ভাবেননি পতৌদি, বরং বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে নিজের খেলার ধরন বদলে ফেলেছিলেন। মাঠের এই অদম্য লড়াকু মানসিকতা আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা ও মানসিক শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *