মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসল প্রশাসন, তড়িঘড়ি বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে ছুটলেন জেলা শাসক!

দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নড়েচড়ে বসল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের বেহাল দশা ও চূড়ান্ত অব্যবস্থার খবর সামনে আসতেই তড়িঘড়ি হাসপাতাল পরিদর্শনে ছুটলেন জেলা শাসক অনিশ দাশগুপ্ত। সঙ্গে ছিলেন বিষ্ণুপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক শুক্লা চট্টোপাধ্যায় এবং স্বাস্থ্য দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। হাসপাতাল জুড়ে পরিকাঠামোর চরম অভাব, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং ব্লাড ব্যাংকে রক্তের হাহাকার দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিদর্শনকারী দল।
মহকুমার লাইফলাইনে চরম অব্যবস্থা
বিষ্ণুপুর মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেকাংশে এই জেলা হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। এমনকি পার্শ্ববর্তী পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সীমানাবর্তী একটি বড় অংশের মানুষও প্রতিদিন এখানে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এই হাসপাতালেই রোগীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছিল। জেলা শাসক ও বিধায়ক এদিন হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড ঘুরে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সর্বত্র যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ এবং নোংরা পরিবেশ নজরে আসে আধিকারিকদের। তীব্র গরমের মধ্যেও অনেক ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক পাখা না থাকায় রোগীদের হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে শোচনীয় দশা ব্লাড ব্যাংকের, যেখানে প্রয়োজনীয় রক্তের অভাবে প্রতিনিয়ত হাহাকার করছেন রোগীর আত্মীয়রা। এর পাশাপাশি হাসপাতালের সাফাই কর্মীদের নিয়োগে বেনিয়ম এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
মূলত দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নজরদারির অভাব, রক্ষণাবেক্ষণের চরম গাফিলতি এবং ঠিকা কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা আজ ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বিধায়কের দাবি, এই বেহাল দশার দায় পূর্ববর্তী সরকারের নীতি ও উদাসীনতার। তবে সরকারের শীর্ষ স্তরের এই আকস্মিক হস্তক্ষেপের ফলে হাসপাতালের সামগ্রিক ছবি দ্রুত বদলাবে বলে আশা করা হচ্ছে। জেলা শাসকের এই কঠোর মনোভাবের কারণে হাসপাতালের সাফাই ব্যবস্থা, ব্লাড ব্যাংকের সংকট মেটানো এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত গতি আসবে। একই সঙ্গে নিয়োগ দুর্নীতি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হলে হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং দুই জেলার হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অবশেষে সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।