সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে সোজা কাউন্সিলর, এবার পুলিশের জালে দেবরাজের ‘ডান হাত’ সম্রাট!

সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে সোজা কাউন্সিলর, এবার পুলিশের জালে দেবরাজের ‘ডান হাত’ সম্রাট!

তোলাবাজি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের গুরুতর অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিধাননগর পৌরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সম্রাট বড়ুয়া ওরফে রাখাল। বাগুইহাটি থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। রাজনৈতিক মহলে সম্রাট মূলত বিধাননগর পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তথা ‘ডান হাত’ হিসেবেই পরিচিত। সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সম্রাটের এমন রকেট গতিতে কাউন্সিলর হয়ে ওঠা এবং পরবর্তী সময়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

রকেট গতিতে উত্থান ও একের পর এক গ্রেফতারি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় সাধারণ সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করলেও দেবরাজ চক্রবর্তীর ছত্রছায়ায় আসার পর সম্রাটের রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রতিপত্তি দ্রুত বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে তিনি তৃণমূলের টিকিটে বিধাননগর পৌরনিগমের নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় তোলাবাজি ও জমি দখলদারির একাধিক অভিযোগ উঠতে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতেই পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি পায় এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সম্রাটকে গ্রেফতার করা হয়। উল্লেখ্য, মাত্র তিনদিন আগেই দেবরাজের আর এক ছায়াসঙ্গী অমিত চক্রবর্তীকে এক প্রোমোটারকে মারধর ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বিধাননগর পৌরনিগমে এই গ্রেফতারির ধারা নতুন নয়; এর আগে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সুশোভন মণ্ডল এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের রঞ্জন পোদ্দারকেও বিভিন্ন অভিযোগে পাকড়াও করেছে পুলিশ।

নেপথ্যের কারণ ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রভাব

সম্রাটের এই গ্রেফতারির পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর লাগাতার তোলাবাজি এবং প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের মতো অপরাধমূলক কার্যকলাপ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। রাজারহাট-গোপালপুরের বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি এই গ্রেফতারির পরিপ্রেক্ষিতে দাবি করেছেন যে, ধৃত ব্যক্তিরা আসলে চুনোপুঁটি এবং এই সম্পূর্ণ তোলাবাজি চক্রের মূল মাথা হলেন স্বয়ং দেবরাজ চক্রবর্তী। একই সঙ্গে দেবরাজকে শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করে তাঁরও দ্রুত গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে হলফনামায় প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি গোপনের অভিযোগ উঠেছে, যা বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন। এই গ্রেফতারির জেরে বিধাননগরের স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রশাসনের অন্দরে এক বড়সড় ঝাঁকুনি লেগেছে, যার প্রভাব আগামী দিনে আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *