আদালতে শত্রু শিবিরের হয়ে সওয়াল, রাজনৈতিক অস্বস্তিতে প্রবীণ বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য

আদালতে শত্রু শিবিরের হয়ে সওয়াল, রাজনৈতিক অস্বস্তিতে প্রবীণ বাম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য

রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়িকা অদিতি মুন্সি ও তাঁর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি এবং নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা করেছেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। গ্রেফতারির আশঙ্কায় থাকা এই তৃণমূল দম্পতির আইনি ঢাল হিসেবে আদালতে সওয়াল করছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অগ্রণী মুখ হিসেবে পরিচিত এই বাম নেতার এমন পেশাদারী পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে খোদ দলের অন্দরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, যা বিরোধী শিবিরকে বড়সড় আক্রমণের অস্ত্র তুলে দিয়েছে।

দলের অন্দরেই তীব্র ক্ষোভ ও ‘কমরেডশিপ’ নিয়ে প্রশ্ন

তৃণমূল নেত্রীর হয়ে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের আদালতে দাঁড়ানোকে সহজভাবে নিতে পারছেন না সিপিএমের নিচু তলার কর্মী ও সমর্থকেরা। বামপন্থী নাট্যকার সৌরভ পালোধি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, যে দলের দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার বাম কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের হয়ে আদালতে লড়া কেমন কমরেডশিপ? দলের তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষও একজন রিকশাচালকের উদাহরণ টানা একটি পোস্ট শেয়ার করে পরোক্ষভাবে বিকাশের এই পেশাগত অবস্থানকে বিঁধেছেন। দলীয় কর্মীদের একাংশের মতে, যেখানে বাম সমর্থকেরা আদর্শের জন্য ত্যাগ স্বীকার করছেন, সেখানে শীর্ষ নেতৃত্বের এমন পেশাদারী সিদ্ধান্ত সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে দিচ্ছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ এবং রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিপিএমের ঘোর বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি— উভয় পক্ষই সুর চড়িয়েছে। তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাম না করে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, যিনি ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের পক্ষে সওয়াল করে নিজেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যোদ্ধা দেখান, তিনিই আজ দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ তৃণমূল নেত্রীর পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান বিকাশের নৈতিকতার দাবিকে খাটো করে এবং এর পেছনে বিজেপি ও সিপিএমের কোনো গোপন সমঝোতা রয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উসকে দেয়।

অন্যদিকে, বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছেন, আইনজীবী হিসেবে তাঁর কাছে আসা বিচারপ্রার্থীর রাজনৈতিক দল দেখা তাঁর পেশাগত আদর্শের পরিপন্থী। এর আগেও তিনি মুকুল রায় বা সব্যসাচী দত্তের মতো নেতাদের মামলা লড়েছেন। তবে এই সাফাইয়ের পরেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেশাগত দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক আদর্শের এই সংঘাত আগামী দিনে সিপিএমের দুর্নীতি বিরোধী প্রচারের ধার অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়কে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *