মাত্র ৫ হাজার টাকা মূলধনেই খুলুন ওষুধের দোকান, বিপুল আয়ের সুযোগ দিচ্ছে কেন্দ্র

বেকারত্ব দূরীকরণে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জন ঔষধি কেন্দ্র’ প্রকল্পের মাধ্যমে এখন নামমাত্র পুঁজিতেই ওষুধের ব্যবসা শুরু করার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে নতুন করে আরও ৪৬৯টি জন ঔষধি কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন, যা বর্তমানের ১১৭টি কেন্দ্রের সংখ্যাকে অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। শিক্ষিত যুবকদের স্বনির্ভর করতে এবং গ্রামীণ ও শহরতলির স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করতে এই উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
এই ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ হলেও এর জন্য কিছু নির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শর্ত পূরণ করতে হয়। আবেদনকারীর অবশ্যই ডি-ফার্মা (Diploma in Pharmacy) বা বি-ফার্মা (Bachelor of Pharmacy) ডিগ্রি থাকতে হবে। দোকান খোলার জন্য ন্যূনতম ১২০ বর্গফুট জায়গার প্রয়োজন, যা হাসপাতাল বা জনবহুল এলাকার কাছাকাছি হলে ব্যবসার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়। সাধারণ প্রার্থীদের জন্য আবেদন ফি ৫,০০০ টাকা রাখা হলেও তফসিলি জাতি, উপজাতি, প্রতিবন্ধী এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের জন্য এই ফি সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যেমন আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেট এবং বাসস্থানের প্রমাণপত্র জমা দিয়ে সহজেই আবেদন করা যায়। অনুমোদন মেলার পর স্থানীয় ড্রাগ কন্ট্রোল কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।
সরকারি আর্থিক সহায়তা ও আয়ের সম্ভাবনা
প্রকল্পটিকে লাভজনক করতে কেন্দ্র সরকার মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান ও ঋণের ব্যবস্থা করেছে। আসবাবপত্র, রেফ্রিজারেটর এবং কম্পিউটারের মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার জন্য সরকার ২, লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া, প্রতি মাসে ওষুধ ক্রয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ইনসেনটিভ বা প্রণোদনা দেওয়া হয়। এই কেন্দ্রগুলিতে ওষুধ বিক্রির ওপর সরাসরি ২০ শতাংশ নিশ্চিত মুনাফা বা মার্জিন পাওয়া যায়। ফলে দৈনিক বিক্রি বাড়ার সাথে সাথে মাসিক আয় ১ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।