ভুয়ো নাম বাদ দিতে অ্যাকশন! এবার ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে’র জন্য শুরু বাড়ি বাড়ি তল্লাশি

ভুয়ো নাম বাদ দিতে অ্যাকশন! এবার ‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে’র জন্য শুরু বাড়ি বাড়ি তল্লাশি

‘অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে’র জন্য বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র লিস্ট দেখে বাদ যাবে অযোগ্যরা

পশ্চিমবঙ্গে আগামী ১ জুন থেকে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) চালুর তোড়জোড় শুরু করেছে নবগঠিত রাজ্য সরকার। তবে এই প্রকল্প চালুর আগে সুবিধাভোগীদের তালিকা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত এবং স্বচ্ছ করতে এক বড়সড় যাচাই অভিযানে নামছে প্রশাসন। রাজ্য সরকারের আশঙ্কা, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তালিকায় বহু অযোগ্য, স্থানান্তরিত কিংবা অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নাম রয়ে গেছে। তাই সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে শুরু হচ্ছে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা এবং তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া।

কী এই ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’?

বিগত বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে এই প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর এবার তা বাস্তবায়িত করতে চলেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • বয়সসীমা ও অনুদান: ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
  • বর্তমান চিত্র: বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পান, যেখানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। নতুন প্রকল্প চালু হলে রাজ্য কোষাগার থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

কড়া যাচাইয়ের জন্য ‘বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা’

গত ১৯ মে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে নবান্নে হওয়া এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

  • বুথ স্তরে সমীক্ষা: বুথ-স্তরের সরকারি আধিকারিকদের (BLO) সহায়তায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুবিধাভোগীদের অস্তিত্ব ও যোগ্যতা যাচাই করা হবে। আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই সমীক্ষার রিপোর্ট জেলা প্রশাসনকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • ASDD তালিকার ওপর জোর: এই যাচাই প্রক্রিয়ায় ‘ASDD’ (Absent, Shifted, Dead, Duplicate) তালিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যাঁরা এলাকায় অনুপস্থিত, অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়েছেন, মারা গেছেন বা যাঁদের ভুয়ো/ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ড রয়েছে, তাঁদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হবে।
  • ভোটার তালিকা সংশোধন: প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় খসড়া তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। পরে আরও প্রায় ৬ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এই বিপুল সংখ্যক বাদ পড়া নাম যাতে কোনোভাবেই নতুন সরকারি অনুদানের তালিকায় না ঢুকতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।

ভুয়ো উপভোক্তা রুখতে অনড় প্রশাসন

সরকারি আধিকারিকদের একাংশের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আমফানের ক্ষতিপূরণ এবং আবাস যোজনার মতো বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়ো বা অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম ঢুকে পড়ার একাধিক অভিযোগ উঠেছিল, যা নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়। সেই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার শুরু থেকেই কড়া অবস্থান নিচ্ছে বর্তমান সরকার।

তবে মানবিকতার খাতিরে একটি বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে। যেসব নাগরিকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে কিন্তু তাঁরা নাম ফেরানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন জানিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত সহানুভূতিশীল অবস্থান নেওয়া হবে। তবে ট্রাইব্যুনালে আবেদন খারিজ হলে তাঁদের নামও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে চিরতরে বাদ পড়বে।

এক ঝলকে

  • ১ জুন থেকে পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র তালিকা ত্রুটিমুক্ত করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা করবে প্রশাসন।
  • নতুন প্রকল্পে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
  • ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তালিকায় থাকা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা ডুপ্লিকেট (ASDD) ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হবে।
  • জেলা প্রশাসনকে আগামী ২৫ মে-র মধ্যে স্ক্রিনিং বা যাচাই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
  • আর্থিক অপচয় ও আইনি জটিলতা এড়াতে ভুয়ো উপভোক্তা রুখতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ করছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *