‘কোন অংশটা অবৈধ, আগে স্পষ্ট করুক পুরসভা’, শান্তিনিকেতনে নোটিশ নিয়ে কড়া জবাব অভিষেকের

কলকাতা পুরসভার (KMC) তরফ থেকে তাঁর বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ পাঠানো নোটিশ এবং ‘অবৈধ নির্মাণ’ ভাঙার নির্দেশ নিয়ে অবশেষে প্রথমবার মুখ খুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে পুরসভাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। অভিষেক বলেন, “আগে নির্দিষ্টভাবে জেনে আসুন কোন অংশটা অবৈধ। যে অবৈধ অংশ ওরা পরিমাপ করে দেবে, আমি তার উপযুক্ত উত্তর দিয়ে দেব।”
কালীঘাটের বৈঠকের মাঝেই অভিষেক-প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার কালীঘাটে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে কলকাতা পুরনিগমের কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের কাজকর্মে নানা সমস্যার যে অভিযোগ উঠছিল, তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা। কলকাতা পুরসভার মোট ১৪৪টি আসনের মধ্যে ১৩৬টিই বর্তমানে তৃণমূলের দখলে রয়েছে এবং এ দিনের বৈঠকে প্রায় ১১০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এই রাজনৈতিক আবহের মাঝেই নিজের বাড়ি সংক্রান্ত বিতর্কে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন অভিষেক।
লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস এবং অবৈধ নির্মাণের বিতর্ক
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা হরিশ মুখার্জি রোডের ১৮৮এ নম্বর ঠিকানার ‘শান্তিনিকেতন’ এবং ১২১ কালীঘাট রোডের অপর একটি বাড়িতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠে, পুরনো কাঠামো ভেঙে সেখানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে নতুন নির্মাণ করা হয়েছে। কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইনের ৪০০(১) ধারায় এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে কালীঘাটের বাড়িটি অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকায় নোটিশ তাঁর নামেই গেছে। অন্যদিকে, ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়িটি অভিষেক নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর নিজস্ব সম্পত্তি নয়, বরং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার দেওয়া আবাসন হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ফলে ওই নোটিশটি পাঠানো হয়েছে সংস্থার নামেই, যেখানে সাত দিনের মধ্যে অভিযুক্ত অংশটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক সংঘাতের আবহে পুরসভার পদক্ষেপ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতার সম্পত্তির হিসাব খতিয়ে দেখা হবে। তার পরেই পুরসভার এই অতি-সক্রিয়তা এবং নোটিশ জারির ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা ও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কুণাল ঘোষ বিষয়টিকে ‘কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করলেও দলগতভাবে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোন অংশটিকে অবৈধ দাবি করা হচ্ছে, তা পুরসভাকে আগে সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে।
এক ঝলকে
- কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে ‘অবৈধ নির্মাণ’ ভাঙার নোটিশ পাওয়ার পর প্রথমবার মুখ খুলে পুরসভাকে নির্দিষ্ট অংশটি চিহ্নিত করার চ্যালেঞ্জ জানালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
- কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন আইনের ৪০০(১) ধারায় অভিষেকের মায়ের নামের বাড়ি এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার নামে থাকা ‘শান্তিনিকেতন’ আবাসনকে ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ অংশ ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
- নির্বাচনী হলফনামায় ‘শান্তিনিকেতন’-কে নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দেখাননি অভিষেক, বরং এটি সংস্থার আবাসন বলে উল্লেখ ছিল।
- রাজ্যে সরকার বদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সম্পত্তি খতিয়ে দেখার হুঁশিয়ারির পরই পুরসভার এই পদক্ষেপ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।