দেবরাজ-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,709&ssl=1)
দক্ষিণ দমদম পুরসভার এক দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলরের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ তাঁর নিজস্ব বাসস্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে ঢুকে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এটি আত্মহত্যার ঘটনা।
তদন্তে পুলিশ ও নেপথ্যের কারণ
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কোনো পারিবারিক সমস্যা নাকি ব্যক্তিগত কোনো কারণ এর পেছনে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে তিনি তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এবং পরিচিতদের সাথে কথাবার্তা বলা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রভাব ও জল্পনা
রাজনৈতিক মহলে সঞ্জয় দাসের এই আকস্মিক মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত কাউন্সিলর ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার দাপুটে নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে দেবরাজ চক্রবর্তীর আটক হওয়ার ঘটনায় ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত। দেবরাজের ঘনিষ্ঠ বলয়ে থাকা একাধিক নেতাকে যখন পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, ঠিক সেই আবহেই সঞ্জয় দাসের এই চরম পদক্ষেপ। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, সাম্প্রতিক এই পুলিশি তৎপরতা ও তদন্তের কারণে তীব্র মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন এই কাউন্সিলর। দীর্ঘদিনের একজন প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির এভাবে চলে যাওয়া স্থানীয় স্তরে দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।