টিকিট না মেলার দুশ্চিন্তা অতীত, অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ট্রেনের আসন নিশ্চিত করবে রেলের ‘বিকল্প’

বাঙালির ভ্রমণপ্রিয়তার পথে অন্যতম বড় বাধা ট্রেনের টিকিট বুকিংয়ের দীর্ঘ ওয়েটিং লিস্ট। ভ্রমণের পরিকল্পনা করে কয়েক মাস আগে টিকিট কাটার পরেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আসন কনফার্ম হবে কি না, তা নিয়ে যাত্রীদের উদ্বেগের শেষ থাকে না। ভ্রমণপিপাসুদের এই চিরন্তন দুশ্চিন্তা ও ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্তি দিতে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (IRCTC) নিয়ে এসেছে এক বিশেষ সুবিধা, যার নাম ‘বিকল্প’ (Vikalp) স্কিম। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো বাড়তি টাকা খরচ না করেই যাত্রীরা তাদের আসন নিশ্চিত করার সুযোগ পাবেন।
যেভাবে কাজ করবে এই বিশেষ স্কিম
রেলের এই বিশেষ ব্যবস্থার মূল কার্যকারিতা লুকিয়ে রয়েছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ওপর। সহজ কথায়, কোনো যাত্রী টিকিট বুক করার পর যদি কাঙ্ক্ষিত ট্রেনে আসন খালি না থাকে, তবে রেলের এই সিস্টেমটি কার্যকর ভূমিকা নেয়। ট্রেনের চূড়ান্ত চার্ট (Final Chart) তৈরির সময়ও যদি মূল টিকিটটি ওয়েটিং লিস্টেই আটকে থাকে, তবেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এই ব্যবস্থা। সিস্টেমটি তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই রুটের এবং একই গন্তব্যের অন্যান্য ট্রেনের ফাঁকা আসনের তালিকা খোঁজে। অন্য কোনো ট্রেনে আসন খালি থাকলে কোনো অতিরিক্ত কড়ি না খসিয়েই যাত্রীর আসনটি সেখানে স্থানান্তরিত করে কনফার্ম করে দেওয়া হয়।
আসন নিশ্চিত করার সহজ কৌশল
এই সুবিধাটি গ্রহণ করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সরল। যাত্রীরা টিকিট বুক করার সময় যাত্রীদের নামের তালিকা ও বিবরণ পূরণ করার ঠিক নিচে ‘Other Preferences’ বিভাগে ‘Opt Vikalp’ নামক বিকল্পটি দেখতে পাবেন। সেখানে টিক মার্ক দিলেই এই সুবিধা সক্রিয় হয়ে যাবে।
যদি কোনো যাত্রী টিকিট বুকিংয়ের সময় এই অপশনটি চালু করতে ভুলে যান, তবে টিকিট কাটার পরেও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর জন্য IRCTC অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে লগ-ইন করে ‘বুকড টিকিট হিস্ট্রি’তে যেতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ওয়েটিং টিকিটটি বেছে নিয়ে মেনু অপশন থেকে ‘Opt Vikalp’ সিলেক্ট করতে হবে। সেখানে রেলের নিয়মাবলীতে সম্মতি জানালেই স্ক্রিনে বিকল্প ট্রেনের একটি তালিকা চলে আসবে। যাত্রীরা তাদের সুবিধাজনক সময় ও রুট অনুযায়ী ট্রেন বেছে নিয়ে সাবমিট করলেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
রেলের এই আধুনিক পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন যাত্রীদের শেষ মুহূর্তের যাত্রা বাতিলের আশঙ্কা কমবে, অন্যদিকে রেলের ফাঁকা আসনগুলোর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে। ফলে কোনো অতিরিক্ত আর্থিক চাপ ছাড়াই সাধারণ যাত্রীদের দূরপাল্লার সফর আরও স্বস্তিদায়ক ও নিশ্চিত হয়ে উঠবে।