রেকর্ড গরমে চরম বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মেঘ, মন্ত্রকের জরুরি বার্তায় দেশজুড়ে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে উত্তর থেকে দক্ষিণ, দেশের বেশ কিছু অংশে পারদ ইতিমধ্যেই ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। এই দুঃসহ গরমে যখন ফ্যান আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রই (এসি) সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসা, ঠিক তখনই দেশজুড়ে ঘনিয়ে আসছে চরম বিদ্যুৎ সংকট। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক দেশবাসীকে অবিলম্বে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর জরুরি পরামর্শ দিয়েছে। সরকারের এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই আমজনতার মনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
রেকর্ড চাহিদা ও জোগান ঘাটতি
গ্রীষ্মের রেকর্ড ভাঙা তাপপ্রবাহের কারণে দেশে বিদ্যুতের চাহিদাও সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৮ মে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৫৮ গিগাওয়াট, যা মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ২১ মে ১ গিগাওয়াট বেড়ে দাঁড়ায় ২৭১ গিগাওয়াটে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ২৭০ গিগাওয়াট। দেশজুড়ে এসির আকাশছোঁয়া চাহিদাই এর প্রধান কারণ, যার ফলে বৃহস্পতিবার গভীর রাতেও দেশে প্রায় ২.৫৭ গিগাওয়াট বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ঘাটতি রেকর্ড করেছে জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা গ্রিড-ইন্ডিয়া। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়ে গেছে।
কয়লার সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধাক্কা
বিদ্যুৎ সংকটের নেপথ্যে রয়েছে দেশের প্রধান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কয়লার তীব্র ঘাটতি। সেন্ট্রাল ইলেক্ট্রিসিটি অথরিটির মতে, ২৭০ গিগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে অন্তত ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টন কয়লা মজুত থাকা আবশ্যিক। অথচ দেশের প্রথমসারির ১৮৯টি তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে বর্তমানে কয়লার স্টক গত বছরের ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টন থেকে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ কোটি ১০ লক্ষ টনে। অর্থাৎ, মজুত ক্ষমতার ৮০ শতাংশ থেকে কমে এখন তা ৬৮ শতাংশে ঠেকেছে। কয়লার এই বিপুল ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বিকল্পের সন্ধান ও সম্ভাব্য প্রভাব
জ্বালানির পর এবার বিদ্যুতের ব্যবহারে রাশ টানার এই সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সাধারণ মানুষ সিঁদুরে মেঘ দেখছেন। এর আগে রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে কয়লার ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিহারে রেশনে কয়লা বণ্টনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে অনেকেই এখন সৌর বিদ্যুৎ এবং ইনভার্টারের ওপর ভরসা করতে শুরু করেছেন। যদিও বিদ্যুৎ মন্ত্রক আশ্বস্ত করেছে যে তারা চাহিদা পূরণে সক্ষম, তবুও বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনার এই বার্তা সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে তুলেছে।